পশু উৎপাদনে সাফল্য

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

কিছুদিন আগেও উৎপাদনে ঘাটতি ছিল। এখন নেই। অনেকটা উদ্বৃত্তও বলা যায়। বিশেষ করে কোরবানির হাটে সে কথাই উচ্চারিত হচ্ছে। এবারের কোরবানিতে বাংলাদেশের চাহিদা ১ কোটি ৭ লাখ। সেখানে দেশীয় প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত গরুর সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে ১১ লাখ গরু বেশি থাকছে বাজারে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কমছে বাড়তি দুশ্চিন্তা। তবে ভারত ও মিয়ানমার থেকে শেষ মুহূর্তে গরু এলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দেশীয় খামারিরা। এতে ক্রেতা পক্ষের ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকলেও বিক্রেতা বা খামারিদের লাভে টান পড়তে পারে। বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে না বলেই মনে করছেন অনেকেই।

যেকোনো বড় উৎসবেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রাণচাঞ্চল্য কিছুটা হলেও নড়েচড়ে বসে। তবে সবচেয়ে বেশি গতিশীলতা লক্ষ করা যায় বছরের দুই ঈদের সময়টায়। আর মাত্র দুই দিন বাদেই পালিত হবে ঈদুল আজহা ২০১৯। ঈদুল আজহা উপলক্ষে অর্থনীতিতে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের প্রসার ঘটে। উৎসবে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যাপক অর্থ লেনদেনসহ বহুমুখী অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়, যা গোটা অর্থনীতি তথা দেশজ উৎপাদন ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। বিশেষ করে চামড়া সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিক্রয় ও ব্যবহার উপলক্ষে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের কর্মযোজনা সৃষ্টি করে।

কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশীয় খামারিদের পালন করা পশুতে চাহিদা মিটবে কি না, এ নিয়ে শঙ্কায় থাকে ক্রেতাপক্ষ। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দুশ্চিন্তাও কম থাকে না। তারা তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্য পাবেন কি না; এ নিয়েও সংশয় কম থাকে না। তবে এবার এসব আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। দেশে বড় করা গবাদি পশুর সংখ্যা কোরবানি হাটের চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে বিদেশি গরুর ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে এবং দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন বলে মনে করছেন পশুসম্পদ অধিদফতরসহ অনেকেই। আমরাও আশা করি, এ ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা থেকে সরে এসে বাংলাদেশ তার নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। তবে এ ক্ষেত্রে যারা দেশ পরিচালনায় আছেন, তাদেরও ইতিবাচক ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে। আমদানির প্রশ্নে তাদের কিছুটা হলেও কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিল্প স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আমদানিকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন যেন কোনোভাবেই নিম্নগামী না হয়; সেদিকে খেয়াল রেখে খামারিদের এবং ক্ষুদ্র আকারে পশু পালনকারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা ভাবতে হবে। আমরা আশা করতেই পারি, আগামীতে অন্যান্য পণ্যের মতো এই বাংলাদেশ এক দিন মাংস রফতানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে নিজের অবস্থানকে সুসংহত করতে সক্ষম হবে।

"