বন্যা প্রতিরোধের স্থায়ী ব্যবস্থা হোক

প্রকাশ | ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

আমাদের নিকটতম স্বজনদের মধ্যেই বন্যা নামটি যুক্ত হয়েছে। বন্যাও স্বজনের মতো প্রতি বছর একবার আমাদের গৃহে পদার্পণ করে। আমরা কেমন আছি, খুব কাছ থেকে দেখার সুজোগ হাতছাড়া করতে চায় না সে। হতে চায় না আনন্দবঞ্চিত। এ যেন বিবাহিত মেয়ের বাপের বাড়ি আসার মতো। কিন্তু আমরা! যেভাবে বরণ করার কথা, তা আমরা পারি না। তার বিধ্বংসী রূপ আমাদের সেভাবে বরণ করতে দেয় না। আগমন বার্তাই আমাদের আতঙ্কিত করে তোলে। এ নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। মাথা নেই বলে ব্যথার কোনো উপসর্গও নেই। তাই ভাবতে হচ্ছে আমাদের। আর সে ভাবনাও দুটি নয়, একটি। আমরা ভাবছি, এমন স্বজনের আসা-যাওয়াটাকে আটকে দেওয়া যায় কীভাবে? কাজটা সহজ না হলেও সব সামাজিকতাকে বিসর্জন দিয়ে হলেও করতে হবে। করতে হবে অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে।

এবারের বন্যার তীব্রতা উত্তরাঞ্চলে প্রবল হলেও, দেশের ২৮ জেলা আক্রান্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানি ঘটেছে ১১৯ জনের। বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে ৭৬ লাখ মানুষ। বড় মাপের ক্ষতি হয়েছে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির। জাতিসংঘ বলছে, শুধু গবাদি পশু ও পোলট্রির ক্ষতি হয়েছে ৭০৪ কোটি টাকারও বেশি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার সংখ্যা ৯টি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭১টি। পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৩১টি বাড়ি। একইসঙ্গে গৃহহীন হয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ৩৯১ জন মানুষ। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, এবারের বন্যায় প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আউশের। এ ছাড়া পাট, বোনা আমন, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজিরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নে জাতিসংঘ বলেছে, বন্যায় বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। ফলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি খাদ্য ঘাটতির মতো পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। এ ছাড়া বন্যায় আক্রান্তদের গৃহস্থালি সম্পদের ক্ষতির পরিমাণও কম নয়। বানভাসিদের পূর্ণমাত্রায় কাজে ফিরে আসতে আরো সময় লাগতে পারে। তবে আশার কথাÑ সরকারও বন্যা মোকাবিলায় পূর্ণমাত্রায় সজাগ। অভিজ্ঞতার আলোকেই তারা তাদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে লিপ্ত রয়েছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আক্রান্ত এলাকায় কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণের কথা ঘোষণা করেছেন। দেশের সব জেলায় খাদ্য ও নগদ টাকা দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ২৮ জেলায় দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত বরাদ্দ। খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বন্যাদুর্গত এলাকায় ২৮ হাজার ৩৫০ টন চাল ১ লাখ ১৭ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ও ২৪ লাখ টাকা বিতরণ করেছে একই মন্ত্রণালয়। বন্যার্তদের সাময়িক আশ্রয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে সাড়ে আট হাজার তাঁবু।

এত কিছুর পরও বলতে হয়, আমরা আপাদকালীন সমাধানের প্রত্যাশী নই। এর স্থায়ী সমাধানের দিকে নজর দেওয়াতেই আগ্রহী। একসঙ্গে পুরো কর্মযজ্ঞ শুরু করাও যে সম্ভব নয়, তাও আমাদের অজানা নয়। তাই, বন্যা পীড়িত অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেখানকার নদ-নদী, খাল-বিলের খননকাজ শুরু করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের কথা মাথায় রেখে এ কাজ সম্পন্ন করাই হতে পারে বন্যার হাত থেকে মুক্তির শুভ উদ্বোধন। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে গ্রহণ করে এগিয়ে যাওয়াটাই হতে পারে প্রতিরোধের একমাত্র পথ। আমরা খুব ভালো করেই জানি, পানিকে ধারন করার মতো রিজার্ভার আমাদের নেই। সেই রিজার্ভারের ক্ষমতা বাড়াতে পারলে প্রতি বছর বন্যার তা-ব থেকে কিছুটা হলেও আমরা নিষ্কৃতি পেতে পারি। আমাদের বাঁচার পথ আমাদেরই তৈরি করতে হবে এবং সরকার সে পথেই এগিয়ে যাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

 

 

"