জেলে বসে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বন্ধ হোক

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

কথায় আছে, ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’। প্রবচনটি ব্যাখ্যা করলে যা দাঁড়ায় তা হলোÑ আপনাকে যেখানেই রাখা হোক না কেন, আপনার চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হবে না, যদি না আপনি নিজেই তা পরিবর্তনে এগিয়ে আসেন। অনেকে বলবেন, পরিবেশ চরিত্রের পরিবর্তন ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং চরিত্র পরিবর্তনে সক্ষম। বাক্যটির মাঝে সত্যতা আছে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি উপমা টানা যেতে পারে। আমরা জানি, ডিমে একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে নির্দিষ্ট মাত্রায় তাপ সঞ্চালন করলে বাচ্চা ফোটে। কিন্তু পরিবেশকে নির্দিষ্ট রেখে নষ্ট ডিমে যতই তা দেওয়া হোক না কেন, সেখানে বাচ্চা ফোটার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। বিষয় বিবেচনায় সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। কারাগারের পরিবেশ কখনো সন্ত্রাসীদের চরিত্র পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেÑ এমন উপমা নেই। আর সন্ত্রাসীদের মধ্যে কেউ নিজ থেকে চরিত্রের পরিবর্তন ঘটিয়েছে এমনটিও শোনা যায়নি। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বলছে, জেলে বসেই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’ চালাচ্ছে। জেলের পরিবেশ বলতে আমরা যেটুকু জানি, সন্ত্রাসীদের জন্য কারাগার অনেকটা অভয়ারণ্যের মতো। তা না হলে জেলে বসে ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’ পরিচালনা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ত।

ঈদ সামনে রেখে বরাবরের মতো সক্রিয় হয়ে ওঠে দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড। এবারও কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তির কাছে চাঁদা চেয়ে ফোন আসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারাগার কিংবা বিদেশে বসেই তাদের এ কর্মটি করে যাচ্ছে এসব সন্ত্রাসী। সূত্র মতে, ‘বেতনভুক’ সন্ত্রাসীদের দিয়ে কারাগারে বসে বা বিদেশে অবস্থান করে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এ কাজ করে যাচ্ছে। কেবল চাঁদাবাজিই নয়, বেতনভুক্ত পেশাদার খুনি দিয়ে ঘটানো হচ্ছে হত্যাকান্ড। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তারা বলছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারক চক্র ফোন করে চাঁদা চাচ্ছে। কিন্তু কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেছেন, প্রাণভয়ে তারা দাবিকৃত চাঁদার কিছু অংশ নির্ধারিত ব্যক্তি বরাবর পাঠিয়েছেন। তবে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেন, দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত ও পাকিস্তানে বসে কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে অথবা বেতনভুক সহযোগীদের দিয়ে চুক্তিভিত্তিক খুন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে। আর সেই টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে হুন্ডিসহ বিভিন্ন অবৈধ পন্থায়। অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে বসে অথবা কারাগারে থেকে তাদের অপরাধ জগৎকে নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে সচল রেখেছে।

কেবল ঈদ সামনে রেখেই নয়, বছরজুড়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ চলছে খুন-খারাবির মতো ঘটনায় এদের পরোক্ষ যোগাযোগ। এ যেন অনেকটা চেইনশপের মতো। দেশের অভ্যন্তরে রয়েছে এদের বিশাল নেটওয়ার্ক। এদের ক্ষমতাও অনেক। আর সে কারণেই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ১২ শীর্ষ সন্ত্রাসী। এখানেই প্রশ্ন। এরা কি সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে? বাস্তবতা বলছে, সম্ভাবনার পাল্লাই ভারী। কিন্তু এ দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এর বিপরীতে। আমরা মনে করি, মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে আসবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

"