মুক্তমত

মূল্যবোধের জাগরণ বড়ই প্রয়োজন

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

গোলাম মোর্তুজা

সামাজিক ন্যায়নীতি, ভালো, মঙ্গল, শুভবিষয়ক মানবিক চেতনার আরেক নামই মূল্যবোধ। এগুলো কোথাও আছে, কোথাও নেই। যেখানে আছে তা বিভিন্ন রোষানলের দমকা হাওয়ায় কর্পুরের মতো উবে যাচ্ছে। আমরা চোখে ঠুলি পরে আছি, দেখেও না দেখার ভান করছি।

সমাজের কাঁধে একদিকে ঝুলছে শিশু হত্যা, শিশু ধর্ষণ, খুন-গুম; অন্যদিকে মহামারি আকার ধারণ করেছে কী করে অন্যকে ধোঁকার মাঝে ফেলে বা দায়িত্বে অবহেলা করে নিজে শুধু ভোগবাদী হয়ে অর্থ, বিত্ত ও বৈভবের মালিক হওয়া যায়। তবে কি আমরা এগিয়ে যাওয়ার নামে পেছনে ঘন অন্ধকারের দিকে ছুটছি? আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের কথা বলছি। যেখানে সামান্য বিষয়ের ওপর ভর করে চলত খুনখারাবি দেদার। মেয়েদের দেওয়া হতো জীবন্ত কবর। এখন কী হচ্ছে? এখন মেয়েরা হচ্ছে ধর্ষিত, অত্যাচারিত। ছোট কোমলমতি শিশুরাও এ থেকে বাদ পড়ছে না। এমন কেন হচ্ছে এ দেশে? পরবর্তী প্রজন্ম কী শিখবে?

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক প্রকল্পে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকা লুটপাটের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রকল্প চলছে। কর্মকর্তারা কেন এ কাজ করলেন? হয়তো তাদের চাকরি নিতে লাখ লাখ খরচ করেছেন আর তা সুদে আসলে উসুল করে নিতে এ রকম একটা প্রকল্প খুঁজে নিয়েছেন। মূল্যবোধ সাধনা দিয়ে অর্জন করতে হয়, এমনি এমনি আসে না।

পরিবেশ রক্ষায় আমরা বেখেয়াল। কখনো কখনো অবুঝ। সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ইপিআই সূচকে পরিবেশ রক্ষায় ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৯তম। আমরা দূষণে-দখলে বেপরোয়া। স্বার্থে লাগে এমন নিয়ম মানতে নারাজ। এর মধ্যে আমাদের মূল্যবোধ জাগে না কেন? আমাদের ভেতরে কেন এত ভোগবাদী মনোবৃত্তি। নিয়মের মাঝে থাকতেই যত আপত্তি। নিয়মনীতির তোয়াক্কা নেই। রাস্তায় সুন্দর করে বড় বড় মোটা হরফে লেখা আছে, ‘পারাপার নিষেধ’, ‘পার্কিং নিষেধ’, ‘ওভারব্রিজ ব্যবহার করুন’Ñ ওগুলো মানতে আমাদের যত অ্যালার্জি। তাই নিষিদ্ধ কাজ করে অকাজে নিয়ম ভাঙার ফলে জীবন পর্যন্ত হারাতে হয়। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে শোভা পায়, ‘হর্ন বাজাবেন না’, ‘গতিসীমা ৪০ কিমি’ অথচ আমাদের চালকগুলো ওগুলো মানবেনই না। বরং জোরে হর্ন বাজাবেন। গতি বাড়াবেন।

এ দেশে সচল কিছু আপ্ত বাক্যের কথা বলি যেমনÑ সন্ত্রাসকে না বলি, অপরাধী যেই হোক পার পাবে না, এ রকম বহু চটকদার কথা আমাদের দেশে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে রাজনৈতিক ক্ষমতায় হৃষ্টপুষ্ট মানুষগুলোই বেশি সন্ত্রাসী কাজ করে। বিভিন্ন অজানা কারণে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা যায় না। আর আনা গেলেও আইনের ফাঁকফোকরে বা অজানা আধ্যাত্মিক কারণে পার পাচ্ছে বা ছাড়ও পাচ্ছে। সমাজের চারদিক আজ মূল্যবোধ, ঔচিত্যবোধ, নীতিনৈতিকতা, মানবিকতার যে কী অপমৃত্যু হয়েছে, তা সমাজে বসবাসকারী ব্যক্তিমাত্রই জানেন।

নতুন করে ভাবনার সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেলেও ভাবতে হবে এখনই। আর তা শুরু পরিবার থেকে করলেই পোক্ত হবে। সবার বাড়িই প্রথম শিক্ষালয়, জ্ঞানালয়। পারিবারিক মূল্যবোধের সুঠাম আবহে থেকে কেউ কোনো দিন নষ্ট হয়েছে বা নষ্টদের দখলে গেছেÑ এমন চিত্র চোখে পড়ে না। তাই বলি পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে। তবেই তো পাকা হবে আমাদের সন্তানরা সুপথে এগোবে। সমাজ বদলে যাবে। রাষ্ট্রের কর্ণধারদের দায়িত্ব কিন্তু অফুরান। অপরাধীকে শাস্তি দিতে হবে সময়মতো।

লেখক : শিক্ষক, রাজশাহী

 

"