দেশবিরোধী বক্তব্যের সুষ্ঠু তদন্ত চাই

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রাম এবং একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়েই জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রাক জন্মলগ্নেই বাঙালি জাতির ৩০ লাখ মানুষকে উৎসর্গ করতে হয়েছে তাদের মূল্যবান জীবন। অকাতরে তারা জীবন ঢেলে দিয়ে ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতা। সেখান থেকে আজ। মাঝখানে ৪৭টি বছর। অনেক ত্যাগ ও তিথিক্ষার পর বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে আজ এক মর্যাদাবান রাষ্ট্রের মুকুট মাথায় নিয়ে উদিত হয়েছে। শুরুতেই বাঙালির অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি করেছে অনেকেই। ষড়যন্ত্রও কম হয়নি। ভাষা রক্ষার্থেও রক্ত দিতে হয়েছে এদের মানুষকে। শুধু ভাষা নয়, অস্তিত্ব রক্ষায় নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও কার্পণ্যবোধ করেনি মানুষ। মনে রাখতে হবে, এ দেশ একাধারে যেমন তিতুমীর, সূর্যসেন ও নূরলদীনের, পাশাপাশি লালন, হাসন আর বারো আউলিয়ার। আমরা হিংসা ও বিদ্বেষ বুঝিনা, বুঝি শাশ্বত প্রেম। অনাচার বুঝিনা, বুঝি আচার। তবে অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেও আমাদের কোনো জুড়ি নেই। আমরা জীবনানন্দের ভালোবাসা আর নজরুলের বিদ্রোহ। ভালোবাসাকে জাগ্রত রাখার জন্যই আমাদের বিদ্রোহ। আমরা সেই জাতি। যা বিশ্ব মানচিত্রে একক ও অদ্বিতীয়।

এ জাতিকে দাবিয়ে রাখার জন্য কম ষড়যন্ত্র হয়নি। এখনো তা চলছে অব্যাহত গতিতে। তারই এক ক্ষুদ্রাতি-ক্ষুদ্র বিস্ফোরণ প্রিয়া সাহার অসত্য বক্তব্য। তাও আবার দেশের বাইরে, যুক্তরাষ্ট্রে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে। একজন বাংলাদেশি হিসেবে এ আচরণ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। হয়ওনি। বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যেকে প্রিয়া সাহার এ অসত্য বক্তব্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। কেবল প্রত্যাখ্যানেই শেষ হয়নি। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে দেশজুড়ে চলছে তোলপাড়। মুসলিমসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরাও বাংলাদেশি এই নারীর কাল্পনিক বক্তব্যের প্রতিবাদ করছেন। ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান গুম হয়ে গেছে। তার নিজের বাড়ি ও জমি দখল করা হয়েছে।’ তবে তার এ বক্তব্যের দায় নিচ্ছে না হিন্দু সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলো। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বলেছেন, এই বক্তব্য ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার একান্তই নিজস্ব। এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।

প্রিয়া সাহার এ বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ করেছেন সরকারের মন্ত্রীরা। একাধিক মন্ত্রী এটিকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘প্রিয়া সাহার বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।’ প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে সরকার এবং গোটা জাতি আজ এক বিন্দুতে অবস্থান করছে। সবাই বলছে, বিষয়টিকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এর পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। বের করতে হবে প্রিয়ার নেপথ্যে থেকে কারা তাকে দিয়ে এ কাজ করিয়েছেন। প্রিয়া সাহা কেবল রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য এ কাজ করেছেন; এ ভাবনাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। এ দেশের মানুষ তার ন্যক্কারজনক রাষ্ট্রবিরোধী এ আচরণের জন্য সুষ্ঠু তদন্তের কথাই ভাবছে।

"