ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই স্থায়ী সমাধান

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বন্যা আসে। ফি বছরই আসে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো একটি উপসর্গ ডেঙ্গু। ফি বছর বন্যা হওয়ার পেছনে অন্য দেশের স্বার্থ ও অনৈতিক অচরণকে দায়ী করা যায়। কিন্তু ডেঙ্গু প্রশ্নে এ দায় অন্য কারো ঘাড়ে চাপানো যাবে না। এ দায় আমাদের। আমাদের অনৈতিক আচরণের কারণে ডেঙ্গু আজ আমাদের জীবনে এক দুর্বিষহ যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা অতি ক্ষুদ্র প্রাণী। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এই ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র প্রাণীর কাছে দেশ ও জাতি আজ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রী, সচিব, মেয়র, এমনকি বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাÑ সবাই এখন ডেঙ্গু নিয়ে কথা বলছেন। সবাই বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেনতা বাড়াতে হবে। এ প্রসঙ্গে বলতে হয়, সচেতনতার প্রশ্নে আমরা কোন অংশে গুরুত্বারোপ করব?

আমরা জানি এ রোগটি মশাবাহিত। সুতরাং মশার উপদ্রপ কমানোই হতে পারে অন্যতম প্রধান কাজ। সে জন্য পরিচ্ছন্নতাকেই দিতে হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে, সর্বাগ্রে এ পরিচ্ছন্নতার অভিযান শুরু করতে হবে আমাদের চিন্তা ও চেতনার অবরুদ্ধ মস্তিষ্ক থেকে। সেখানে জমে থাকা সব আবর্জনাকে ডাস্টবিনে না ফেলা পর্যন্ত মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কোনো লাভ নেই। পানিমিশ্রিত আবর্জনাই হচ্ছে মশা উৎপাদনের অন্যতম কারখানা। সমাজে এই অবর্জনা নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। আবর্জনার স্তূপে চাপা পড়ে ঢাকা মহানগর আজ তার সব সৌন্দর্য হারিয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্ত করেছে নতুন নতুন রোগ এবং ফি বছরই এই রোগ ঘুরে-ফিরে আসছে। যার মধ্যে ডেঙ্গু প্রতি বছর আমাদের দরোজায় কড়া নাড়ছে নিয়মিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর ধরনও পাল্টে গেছে। আগে তারা এই রোগ শনাক্ত করতে যে লক্ষণগুলোকে প্রাধান্য দিতেন, সেখানে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আগে ডেঙ্গু হলে কয়েক দিন জ্বরে ভোগার পর গায়ে র‌্যাশ ওঠা, চোখ লাল হওয়া ও রক্তে প্লাটিনেটের পরিমাণ কমে যাওয়া শুরু হতো। কিন্তু এখন প্রথম দিন থেকেই রক্তে প্লাটিনেটের পরিমাণ কমতে থাকে। আমরা এই পরিবর্তন দেখে এ কথা বলতেই পারি, মশারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে অথবা আমাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতার অবনমন হয়েছে। কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের জবাবেও বলতে হয়, আমাদের অনৈতিকতাই এর প্রধান কারণ।

আমরা আমাদের পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ এবং রাষ্ট্র পর্যন্ত সবাই আজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েছি। আর সেই উদাসীনতা জোটবদ্ধ হয়ে মশার মতো ক্ষুদ্র প্রাণীকেও ১৭ কোটি মানুষের চেয়ে শক্তিশালী করে তুলেছে।

আমরা মনে করি, ডেঙ্গুর সর্বোত্তম ওষুধও অচিরেই পাওয়া যাবে। হয়তোবা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিনও আসবে। কিন্তু এই মশার কারণে আমদানি হবে নতুন কোনো রোগ। ডেঙ্গুর পরিবর্তে তার নামও হয়তো বদলে যাবে। কিন্তু রোগের কবল থেকে এই জনপদের মানুষ মুক্তি পাবে না তখনো। সুতরাং, এর থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথই হচ্ছে মশা নির্মূল করা। একেবারে নির্মূল করা সম্ভব না হলেও অনেকাংশে কমানো সম্ভব। যদি আমরা একটু সচেতন হই। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে এই পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এটাই হতে

পারে স্থায়ী সমাধান।

"