নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সাহিত্যে নদী ও নারীকে অনেকেই সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। নারী হচ্ছে মানব অস্তিত্ব¡ এবং সভ্যতার সূতিকাগার। ফলে ভারানত বৃক্ষ। সভ্যতার পথপ্রদর্শক। একইভাবে পানির অপর নাম যদি জীবন হয়ে থাকে, তখন নদীর ভূমিকাও নারী চরিত্রের পাশে সমান্তরাল। নারীর অরেক নাম মা। মা তার জীবনের সব ভালোবাসার নির্যাস দিয়ে সন্তানদের লালন করেন। দুঃখের সবটাই ধারণ করে সুখটা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন সন্তানদের হাতে। বিনিময়ে তারা কিছুই চান না। আর নদী! পার্শ্ববর্তী জনপদের কাছে তারও কোনো চাহিদা নেই। দেওটাই স্বভাবের অংশ। তাদের এই স্বভাবে যদি কখনো পরিবর্তন আসে, তাহলে মানব অস্তিত্ব¡ সংকটে পড়বে। সভ্যতার সব অহংকারই তাসের ঘরের মতো ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়বে।

বিষয়টি সবারই জানা। তবু আমরা সচেতন নই। নারীকে যথাযথ মর্যাদা দিতে ভুলে যাই। নদীকে লালন করতে জানি না। বর্তমানকে (নিজেকে) ভালোবাসতে গিয়ে ভুলে যাই অনাগত ভবিষ্যতের কথা। আগামী প্রজন্ম এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর কথা। এভাবেই যেন চলছে বিশ্বসমাজ। আমরাও সে সমাজের একটি ক্ষুদ্রতম অংশ মাত্র। সর্বত্রই যেন কমবেশি একই চিত্র। বাংলাদেশও সেই চিত্রের বাইরে নয়। ধুঁকছে নারী, ধুঁকছে নদী। দূষণ ও দখলের কবলে পড়ে ধুঁকছে শতাধিক নদী। নদীর তীরে রয়েছে বড় বড় অবৈধ স্থাপনা। সরাতে আসেনি কেউ। ৪৭ বছর কেটে গেছে কেউ কথা রাখেনি। দখল করেছে। আবার কেউ কেউ অবৈধ দখলদারদের সাহস জুগিয়েছে। ফলে প্রায় প্রতিটি নদীই আজ মৃত্যুর দারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বলছে, আমাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তোমরাও তোমাদের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করছো।

নদীর এই আপ্তবাক্য উচ্চারণের জবাবে বলতে চাই, ভয় নেই! বাংলাদেশের মানুষ তোমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দাঁড়িয়েছে প্রতিরোধে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শুরু হয়েছে নদী উদ্ধার কার্যক্রম। উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাতীয় নদী কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শত নদী ধুঁকছে দখলের থাবায়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ঢাকা বিভাগের ১০ জেলায় ১০২ নদীতে ৮৪৪টি বড় অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। যার বেশির ভাগই শিল্প-কারখানা। নদী কমিশন প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে হাটবাজার ও শিল্প-কারখানাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এখানে সাধারণ মানুষের বসতিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এরপরও দখলের চিত্র ভয়াবহ। অনেক ক্ষেত্রে শিল্পমালিকরা শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন নদীর জমি দখল করে। এটি হলো একটি দখল চিত্রের সামান্য বর্ণনা। পুরো দেশের অবস্থা আরো ভয়াবহ। এখানে উল্লেখ করা জরুরি, কমিশনের দায়িত্ব শুধু প্রতিবেদন দাখিল করা। তারা তাদের কাজ করেছেন। বাকিটা সরকারের।

সরকারও বসে নেই। তারা এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এরই মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযান চলাকালে ভূমিদস্যুরা প্রতিরোধে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সরকারের অনমনীয় পদক্ষেপের সামনে তাদের সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর এ কার্যক্রম সফল হলে তা হতে পারে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। আমরা সেই ঘটনার সাক্ষী হয়ে বলব, দেশপ্রেমের এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যিনি বা যারা দেখাতে পারেন তিনি বা তারা সত্যিকার অর্থেই দেশপ্রেমিক। আমরা সব সময় এমন দেশপ্রেমিকের পাশে থেকেছি, আছি ও থাকব।

 

"