পুলিশ প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সেই সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভেঙে পড়ে সমাজ কাঠামো। সম্ভবত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে তারই ইঙ্গিত বহন করছে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বলছে, অপরাধ দমনের দায়িত্ব যাদের ঘাড়ে, সেই পুলিশই জড়িয়ে পড়েছে নানাবিধ অপরাধ ও অনিয়মে। শুধু ঘুষ আর চাঁদাবাজিতেই থেমে নেই পুলিশ। মাদক কেনাবেচা, জমি দখল, ধর্ষণ ও খুনের মতো ফৌজদারি অপরাধেও জড়াচ্ছে তারা। পত্রিকা বলছে, পুলিশের এমন প্রবণতায় জনমনে মূর্তিমান আতঙ্কে রূপ নিচ্ছে সুশৃঙ্খল এই বাহিনী। তবে সবাই নয়, কিছু অসাধু সদস্যের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীর ওপর পড়ছে কলঙ্কতিলক। প্রতিদিনই পুলিশ সদর দফতরে সদস্যদের বিরুদ্ধে আসছে অভিযোগ। জমতে জমতে তা পাহাড়ে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর সে কারণেই সরকারকে নিতে হয়েছে কঠোর অবস্থান। শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান।

সম্প্রতি সারা দেশে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ লেনদেন ঠেকাতে নজিরবিহীন সতর্কতা অবলম্বন করে পুলিশ সদর দফতর। এই সতর্কতার ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় মাত্র ১০০ টাকা খরচে চাকরি পান অসংখ্য বেকার যুবক। এ ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছে পুলিশ বাহিনী। সমাজের সব স্তরের মানুষের আলোচনার মধ্য থেকে বেরিয়ে আসা বার্তার যোগফল এই প্রশংসা। বহু দিন পর, অনেক অপেক্ষা শেষে পুলিশের কর্মকা-ে এই পরিবর্তন সমাজে কিছুটা হলেও স্বস্তি জোগাবে। কথায় আছে, মাথা পচলে দেহের সবটাই পচে যায়। একজন পুলিশ আইজিপির সততা ও সঠিক পদক্ষেপের কাছে পরাজিত হয়েছে সব অপশক্তি। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে সব সময় এ রকম পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় থাকছি।

বাংলাদেশে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছেÑ এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভাগীয় তদন্তের আড়ালে অনেক সময় অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। প্রতাহার বা সাময়িক বরখাস্তের যে শাস্তি দেওয়া হয়, তা মূলত কোনো শাস্তির পর্যায়ে পড়ে না। কোনো বড় ঘটনা ঘটলে বা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই বদলি, প্রত্যাহার, ক্লোজ বা সাময়িক বরখাস্তের শাস্তি দেওয়া হয়। এসব শাস্তিতে দোষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ইতিবাচক মানসিকতা হারিয়ে ফেলে নেতিবাচক মানসিকতায় আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া এসব শাস্তিতে সাময়িকভাবে কাজের বিঘœ ঘটা ছাড়া আর কোনো প্রভাবই পড়ে না পুলিশ সদস্যদের মধ্যে। ফলে প্রচলিত এই শাস্তি পুলিশের অপরাধ কমাতে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমাদের ভাবনাও অনেকটা এ রকম। আমরাও মনে করি, পুলিশের যেকোনো অপরাধের জন্য সঠিক তদন্ত হয়ে আদালতের মুখোমুখি করা দরকার। ফলে জনগণ তা জানার সুযোগ পায়। স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেতে পারে। পুলিশের প্রশংসা শুধু নয়, পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করার সুযোগ পেতে পারি। আশা করি, পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা আমাদের সে প্রত্যাশা পূরণ করবেন।

 

"