বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসতে হবে

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এজন্য বাংলাদেশ দায়ী না হলেও এর বিরূপ প্রভাবে দেশের খাদ্য, কৃষি, স্বাস্থ্যসহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন একটি নৈমিত্তিক ঘটনা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। অতিমাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন- অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি। এ কারণে মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমগ্র বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। এ পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ঠিক এমন একসময়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যে প্রজ্ঞা ও কার্যকারিতার উদাহরণ দেখিয়েছে, তা বিশ্বের সব দেশকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। বান কি মুনের এই সত্য উচ্চারণে আমরা গর্বিত। তাকে অভিনন্দন।

কেবল বাংলাদেশই নয়। গোটা বিশ্বই আজ এই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে নানাবিধ ঝুঁকির মধ্যে সময় পার করছে। ১৯৯৬-৯৭ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ছিল ষষ্ঠতম। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনুমিত সময়ের আগেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব জনজীবনে পড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেছেন, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এরই মধ্যে প্রাক শিল্প স্তরের চেয়ে প্রায় এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ওপরে পৌঁছেছে। বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ছে। যদি বর্তমান হারে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে তা হলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে আমাদের ১৯টি উপকূলীয় জেলা স্থায়ীভাবে তলিয়ে যাবে। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমুদ্রতল বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৬০ লাখ জলবায়ু অভিবাসী রয়েছে। অবস্থার পরিবর্তন না হলে ২০৫০ সালের মধ্যে এটি বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে; যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। (সূত্র : জার্মান ওয়াচের ক্লাইমেট চেঞ্জ ভার্নাবিলিটি ইনডেক্স)। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আরো সচেতন হতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শস্যের গুণাগুণ ও উৎপাদনের পরিমাণে পরিবর্তন আসবে। বর্তমান চাষযোগ্য এলাকায় উৎপাদন হ্রাস পাবে। পানির স্বল্পতা বৃদ্ধি পাবে, হ্রাস পাবে মাটির উর্বরতা। একই সঙ্গে নতুন নতুন রোগবালাই দেখা দিতে পারে। কমে যাবে মৎস্য বৈচিত্র্য। দারিদ্র্য বাড়বে এবং সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ কারণে ২১ শতকে সার্বিকভাবে কৃষির উৎপাদন শতকরা ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ধান ও গমের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে। চিত্রটা বাংলাদেশের হলেও বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশ দেশের চিত্র কমবেশি এর বাইরে নয়। জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ ও কৌশল সম্পর্কে বান কি মুন বলেন, এখান থেকে আমাদের অনেক শেখার আছে এবং আমরা শিখতে এসেছি। আমরা মনে করি, বান কি মুনের এই উচ্চারিত শব্দাবলি যেন জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের নেতৃত্বের চিন্তাচেতনার রুদ্ধ দরোজাকে উন্মুক্ত করতে পারেÑ এটুকুই প্রত্যাশা।

 

"