রেলসেতুর সংস্কারে স্বচ্ছতা চাই

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি ঢাকা-সিলেট রুটে রেলের বগিসহ সেতু ভেঙে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটার পর প্রধানমন্ত্রী দেশের সব রেলসেতু জরিপে এবং জরিপের মাধ্যমে যেসব সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হবে, তা দ্রুত মেরামতের নির্দেশনা দেন। এর জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দও দেওয়া হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, মেরামতের নমুনা দেশবাসীকে হতাশ করছে। মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ বলছে, খোদ ঢাকার দয়াগঞ্জ রেলসেতুতে অনেক দিন ধরেই ভাঙা অবস্থায় রয়েছে কয়েকটি সিøপার। সিøপার ও লাইনে পাতের কোথাও কোথাও নাট নেই। নড়বড়ে সিøপার ঠিক রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশ। এ ছাড়া সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকার রেলপথের বিভিন্ন স্থানে সেতুর অবস্থা জরাজীর্ণ। অনেক স্থানে সিøপারের নাট-বল্টু নেই। ঢাকার দয়াগঞ্জ রেলসেতুতে কাঠের সিøপারগুলোর অবস্থা বেহাল। খসে পড়েছে সিøপারের কাঠ। আর সিøপারগুলোকে শক্ত রাখতে স্টিলের পাতের বদলে লাগানো হয়েছে বাঁশের ফালি। এ ছাড়া রাজবাড়ীর রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে নেই সিøপার ও নাট-বল্টু। আবার রেলসেতুতে লোহার পাত দিয়ে মেরামতের কথা থাকলেও বাঁশ দিয়ে করা হচ্ছে সংস্কার। রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া রুটের চান্দনা সেতুর মতো এ রুটের ছোট-বড় অধিকাংশ সেতুর সংস্কারে ব্যবহার করা হয়েছে পেরেক ও সুতলি। এখানেই শেষ নয়। গোয়ালন্দ-কুষ্টিয়া, কালুখালী-ভাটিয়াপাড়াসহ তিনটি রুটের ৬২টি ব্রিজে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ।

বছরের পর বছর সংস্কার না করার কারণে ৩ হাজার ৩৮০টি ছোট-বড় সেতুর মধ্যে ৩২৭টি রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুগুলো দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে ধীরগতিতে। বর্তমানে দেশের ২ হাজার ৮৭৫ কিলোমিটার রেলপথে ৪৭৭টি বড় সেতু রয়েছে। আর ছোট সেতুর সংখ্যা ২ হাজার ৯০৩। এসব সেতুর অধিকাংশেরই নির্মাণকাল ব্রিটিশ আমলের হওয়ায় সেতুগুলোর বয়স এখন ৮০ থেকে ১০০ বছর। এ যাবৎ কোনো সেতুর সংস্কারে কোনো ধরনের মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। আমরা বিশ্বাস করি, তার এই উদ্যোগের প্রতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে সততার সঙ্গে কাজে হাত লাগাবেন। কর্মক্ষেত্রে আমরা সততার অভাব দেখছি। অন্তত মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর সে কথাই বলছে। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, রেলসেতু সংস্কারে একসঙ্গে সবগুলো সেতু সংস্কারের কথা না ভেবে কয়েকটি অংশে ভাগ করে তা করা যেতে পারে। প্রায়োরিটি বিবেচনায় এ ভাগ করতে হবে। তবে কোনোক্রমে জোড়াতালি দিয়ে এ কাজ করা যাবে না। কোনো ধরনের দায়িত্বহীনতাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, সংস্কারকাজে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সততার সঙ্গে এ কাজে অংশ নিয়ে দেশ ও জাতির আকাক্সক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। আমরা আর কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকা- দেখতে চাই না। অনুুরোধ থাকবে বাঁশ-রশি ও কাঠশিল্পের ব্যবহার পরিত্যাগ করে সঠিক শিল্প ব্যবহারে এগিয়ে আসুন।

 

 

"