নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা কাম্য নয়

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

কোনো কারণ ছাড়াই অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজার। ক্রেতাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছেন। যদিও সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। কোথাও অনিয়ম চোখে পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তার পরও সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত। গত কয়েক দিনে রাজধানীর একাধিক বাজারের চিত্র এটি। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা। কারণ নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাদের জীবন। সেক্ষেত্রে কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বাজারকে অস্থির করে তোলা কোনোভাই কাম্য নয়।

গতকাল প্রতিদিনির সংবাদে প্রকাশিত ‘নিত্যপণ্য : ব্যবসায়ীরা দাম নিচ্ছেন ইচ্ছামতো’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, কোনো কারণ ছাড়াই বেড়েছে সব ধরনের মাছ, মাংস, সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও আটার দাম। ৩২ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরের বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৩৭ টাকায়। বাজেটে সুগারের ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির অজুহাতে বেড়েছে চিনির দাম। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৫৭ টাকায়। আর দেশি শিল্পকে প্রটেকশন দিতে শুল্ক বেড়েছে আমদানি করা গুঁড়া দুধের। ৪৪৫ টাকার গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে ৪৯৫ টাকা কেজি দরে। ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ১৫ টাকা। তবে ডিমের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, খামারে গরমের কারণে ডিমের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া মাছ ও মাংসের দাম বাড়ায় ডিমের ওপর চাপ পড়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে কেজিতে ৭ টাকা। এর প্রভাবে আমদানি করা পেঁয়াজের সঙ্গে দেশিটির দামও বেড়েছে। ২৫ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫৫ টাকা দরে। রসুনের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই, তার পরও কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরের রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা শুধু ফাঁকফোকর খুঁজে বেড়ান, কখন কোন সুযোগে অনৈতিক মুনাফা করবেন। জাতীয় স্বার্থে এসব অসাধু ব্যবসায়ীকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থাও জোরদার করা দরকার।

প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, কোনো ধরনের দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। যদিও ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্যের দাম বাড়ানোর অজুহাতেরও কোনো শেষ নেই। তাদের কাছে কখনো দাম বাড়ে মোকামের কারণে, কখনো পাইকারি বাজারে দাম বাড়ানোর কারণে, আবার কখনো সরবরাহ কম থাকায়। আবার কখনো গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাত দাঁড় করান ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আছেই। তবে আমরা মনে করি, অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্র¿ণের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম যৌক্তিক রাখার কোনো বিকল্প নেই।

"