শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

নৃশংসতম প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সাত বছরের শিশু সায়মা হত্যার পর কাঁদতে কাঁদতে মানবতার কাছে ধর্ষকের ফাঁসি চাইছে পৃথিবীর তাবৎ সন্তানরা। সম্ভবত বাংলাদেশের মানুষ আজ মুখ, বধির ও বোধহীন হয়ে গেছে। কোনো নৃশংসতাই যেন আজ আর তাদের স্পর্শ করছে না। সম্ভবত সে কারণেই কোথাও মিলছে না শিশুর নিরাপত্তা। বাড়ির আঙিনা, স্কুলের চার দেয়াল, এমনকি নিজ ঘরেও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে না শিশুর। গেল দুই সপ্তাহে দেশজুড়ে কমপক্ষে ১৫টি যৌন অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশির ভাগের শিকার শিশুরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবদমনের সংস্কৃতির কারণেই মানুষের মধ্যে এমন বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। বাড়ছে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নিকৃষ্টতম অপরাধ। ছুটির দিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান আবদুস সালাম। ছেলেমেয়েদের নিয়ে সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখেন। দুপুরে জুমার নামাজ শেষে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়াও করেন। মাগরিবের নামাজ শেষে সবার জন্য আনেন সান্ধ্যকালীন নাশতা। কিন্তু ঘটনার দিন অর্থাৎ গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নাশতা নিয়ে এসে জানতে পারেন তার আদরের মেয়ে সায়মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নাশতার প্যাকেট হাতেই খুঁজতে বের হন বাবা। খোঁজার একপর্যায়ে ভবনের নবমতলায় গিয়ে থমকে দাঁড়াতে হয় তাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন সায়মার নিথর দেহ। বুকে তুলে নিয়ে বাবা কেবল নির্বাক তাকিয়েছিলেন সন্তানের দিকে। পৃথিবীর সব নীরবতা যেন গ্রাস করেছিল বাবাকে। যথারীতি পুলিশ এসেছে। ঘটনা তদন্তে এসেছে সিআইডির ফরেনসিক ও ডিবি টিম। বাকরুদ্ধ বাবা আবদুস সালাম। নাশতার প্যাকেটটি তখনো ধরা ছিল তার হাতে। পুরান ঢাকার ওয়ারীতে বহুতল ভবনের ফাঁকা ফ্ল্যাটে শিশু সায়মাকে আগে ধর্ষণ করে পরে হত্যা করা হয়েছিল। শিশুটির মুখে-ঠোঁটে কামড়ের দাগ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান এ তথ্য জানিয়েছেন। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে ভবনমালিক, নিরাপত্তা প্রহরীসহ ছয়জনকে। বাকিটা ভবিতব্যের হাতে। কেননা, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে শিশু ধর্ষণের চিত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রথম চার মাসে ২৯০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শুধু এপ্রিল মাসেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৫ শিশু। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৭০ জনেরও বেশি শিশু ধর্ষিত হয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সায়মার মতো শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা আমাদের আবার উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে এই অনৈতিক কর্মের মাত্রা বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল অবক্ষয়ই নয়, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া, দুর্বল চার্জশিট, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, প্রভাবশালীদের আধিপত্য এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে অবক্ষয়ের মাত্রাকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করেছে এবং এখনো করছে। এই চিহ্নিত কারণগুলোর মূলোৎপাটন করা না গেলে সমস্যা আরো ঘনীভূত হয়ে পুরো সমাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। আমরা মনে করি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মধ্য দিয়ে এ ধরনের নির্মম ঘটনায় জড়িত ধর্ষক ও হত্যাকারীদের মূলোৎপাটন আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আশা করি, যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে, ভাববে এবং ব্যবস্থা নেবে।

 

 

"