শিল্প খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজেদের স্থান করে নেয়। সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে পরিহাস করেছিলেন। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে সেই দেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। আর বাংলাদেশের এই অর্জনের মূলে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য মেয়ে চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। ওই সময় ৪০ শতাংশ খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি হলেও, খাদ্য আমদানি করতে হয় নাÑ এ অর্জন চাট্টিখানি কথা নয়। এ ছাড়া শিল্প খাতেও বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান বাড়ছে। বেগবান হচ্ছে অর্থনীতির গতি।

বিগত ২০ বছরে শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের হার বাড়ছে। এর মাধ্যমে অর্থনীতিতে কাঠামোগত রূপান্তর ঘটছে। ফলে উন্নত অর্থনীতির দিকে পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে সরকারের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, বিগত চার দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে দেশে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান হ্রাস এবং শিল্প খাতের অবদান বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা অনুধাবন সত্ত্বেও আগামী দিনগুলোতে শিল্পায়নের উচ্চহার বাংলাদেশের টেকসই এবং উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি হবে। বিগত বছরগুলোতে জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান সর্বোচ্চ। তবে শিল্প খাতের অবদান ক্রমেই বৃদ্ধির ফলে সেবা এবং কৃষি খাতের অবদানে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কারণ উন্নত অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন। কম খরচে বেশি পণ্য উৎপাদন। বাংলাদেশের অর্থনীতি এরই মধ্যে সেদিকে যাত্রা করেছে। আগামীতে এসব লক্ষ্য আরো বেশি মাত্রায় অর্জনের জন্য সরকার সেভাবে নীতি প্রণয়ন করছে। জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান বৃদ্ধি পেলে স্থায়ী কর্মসংস্থান বাড়ে। তাই যেকোনো মূল্যে শিল্প খাতকে চাঙা করতে হবে। যদিও কর্মসংস্থানের দিক থেকে এখনো সবচেয়ে বেশি রয়েছে কৃষি খাতে। তবে গত ২০ বছরে শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের হার বাড়ছে।

মনে রাখতে হবে, বিগত ৪৮ বছরে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকগুলোতে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। যত বাধাই আসুক, এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে হবে। বিশেষ করে শিল্প খাতের দিকে আরো বেশি নজর দিতে হবে। কারণ উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিও শিল্প খাতের ওপর নির্ভরশীল। আমরা আশা করি, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে যে মৌলিক পরিবর্তন আসছে। ধীরে ধীরে এই কাঠামো পরিবর্তিত হয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উন্নত দেশের অর্থনীতির কাতারের দিকে এগোচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে টেকসই করতে সরকারকে অবশ্যই শিল্প খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

 

 

"