উদ্ভিদ বাঁচলেই বাঁচবে পৃথিবী

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

উদ্ভিদের কারণেই পৃথিবীতে সচল রয়েছে জীববৈচিত্র্যের সব প্রক্রিয়া। নিঃশ্বাস নেওয়া থেকে শুরু করে খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষভাবেই হোক আর পরোক্ষে, আমাদের নির্ভর করতে হয় এই উদ্ভিদের ওপর। এ কথা আমাদের সবারই জানা। জানার পরও আমরা উদাসীন থেকেছি এবং এখনো সেই উদাসীনতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের পরিবেশগত বিপর্যয়সহ নানাবিধ কারণে গত আড়াই শতাব্দীতে ৫৭১ প্রজাতির গাছ বিলুপ্ত হয়েছে এবং এই বিলুপ্তি এখনো শুধু অব্যাহতই থাকেনি, তীব্রতর হয়েছে, যা সত্যিকার অর্থেই বিশ্বমানব সম্প্রদায়ের জন্য আতঙ্কের কারণ।

গবেষণা বলছে, প্রাণীর তুলনায় উদ্ভিদের বিলুপ্তির হার বেশি। গত ২৫০ বছরে পৃথিবী থেকে প্রায় ৫৭১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরো বেশ কিছু উদ্ভিদ। গবেষকদের মতে, উদ্ভিদ জগতের এ ঝুঁকি ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য কোনো মঙ্গলবার্তা বহন করে না। বার্তাটি নেতিবাচক। বিশ্বের বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলার পেছনে এটাই এ মুহূর্তের অন্যতম প্রধান কারণের একটি বলেই মনে করছেন তারা।

বিশ্বে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। রুক্ষ হয়ে উঠছে প্রকৃতি। আর এ প্রকৃতিকে রুক্ষ করার অন্যতম কারণ হলো মানুষের চরমতম ভোগবাদী চিন্তার ফল। প্রকৃতির ওপর মানুষের ক্রমাগত নিপীড়ন ও অত্যাচার আজ পৃথিবীকে এ পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়েছে। দেশে দেশে কমে আসছে বনভূমি। প্রাণিকুলের জন্য অনিশ্চিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বৈরী পৃথিবীতে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, উদ্ভিদের বিলুপ্তি কেবল একটা সংখ্যাই নয়। এর সঙ্গে জড়িত পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে কোটি কোটি প্রাণিকুল বেঁচে থাকে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, উদ্ভিদ বিলুপ্তির এমন ঘটনা পুরো বিশ্ববাসীর জন্য একটি অশনিসংকেত।

আমরা অর্থাৎ বাংলাদেশ, পৃথিবীর একটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও একে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। কেননা উদ্ভিদের অস্তিত্বের সঙ্গে রয়েছে আমাদের অস্তিত্বের নিগূঢ় সম্পর্ক। এই উদ্ভিদই অক্সিজেন তৈরি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে বাঁচিয়ে রেখেছে নান্দনিক পৃথিবীকে। অক্সিজেন ছাড়া আমাদের এক মুহূর্তের জন্যও বেঁেচ থাকা সম্ভব নয়। গাছই হচ্ছে বৈশ্বিক বাস্তুসংস্থানের মেরুদন্ড। সেই মেরুদন্ড যদি আঘাতপ্রাপ্ত হতেই থাকে, তবে তা দুর্বল হয়ে পড়বেÑ এটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি আঘাতকারীর ভূমিকা যদি আমরাই গ্রহণ করি, তা হলে একে আত্মঘাতী হামলা ছাড়া আর কিছুই বলা সম্ভব নয়। সম্ভব না হলেও আজকের পৃথিবীতে এটাই বাস্তবতা। আমরা মনে করি, এ বাস্তবতার একটা পরিবর্তন হওয়া আজ খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন আর সেই পরিবর্তনের অপেক্ষায় বিশ্ব প্রকৃতি ও আমরা।

"