উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। যার মূলে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং উন্নয়নের সদিচ্ছা। এক দশক ধরে দেশের উন্নয়নের গতিকে তিনি যেভাবে ত্বরান্বিত করেছেন তা বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে আজ স্বীকৃত। সে অভিযাত্রায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতায় দশক ধরে দেশে ৬ শতাংশের ওপরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির এ গতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আর চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরসহ ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে পরপর চারবার ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ; চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চলতি বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাথাপিছু জিডিপি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৫২ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮২৭ ডলার হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মাথাপিছু জাতীয় আয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় ছিল ১ হাজার ৭৫১ ডলার, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হয়েছে ১ হাজার ৯০৯ ডলার। বিবিএসের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিনিয়োগই বিগত অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিনিয়োগের হার ছিল জিডিপির ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। পূর্ববর্তী অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগ ছিল ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরিমিত খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ সময়ের ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ কমেছে। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে এ হার ছিল ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। পক্ষান্তরে ২০১৯ সালের মার্চে তা দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘এগোচ্ছে অর্থনীতি বাড়ছে প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন সমীক্ষার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া এ বছর রাজস্ব আহরণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আহরণের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। তা হলেই প্রবৃদ্ধির সন্তোষজনক অগ্রগতি সম্ভব।

মনে রাখতে হবে, আমাদের অর্থনীতি সম্ভাবনার এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। যেকোনোভাবেই হোক তা ধরে রাখতে হবে। সেজন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারের উচিত উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি খাতকে আরো উৎসাহিত করা। দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এ অপার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সব খাতে এগিয়ে যাওয়ার সাহসী উদ্যোগ নেওয়ার এখনই সময়।

 

 

"