সরকারি তত্ত্বাবধানে ধান ক্রয় স্বাভাবিক হোক

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

এ এক অদ্ভুত ব্যাপার! ধানের দাম কমলেও চালের দাম কমে না। নিত্যদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও দুই বছর ধরে ধানের দাম তুলনামূলক বিচারে কম। আর এবারের বোরো মৌসুমে অবস্থা আরো শোচনীয়। ধান বিক্রি করে লাভ করা তো অনেক দূরে, খরচের টাকাই উঠছে না। ফলে বাম্পার ফলনেও মলিন কৃষকের মুখ। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যত বেশি ফলন তত বেশি লোকসান। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কৃষকরা কেন ধান চাষ করবেন! প্রশ্ন উঠেছে এবং ওঠাটাই স্বাভাবিক।

কুড়িগ্রামের কৃষকদের অবস্থাও এর বাইরে থাকার কথা নয়। গোলাভরা ধান রেখে হতাশায় কাটছে তাদের দিন। তাই ভবিষ্যতে ধানের বদলে অন্যকিছু আবাদের কথা ভাবছেন চাষিরা। কৃষকরা বলছেন, ধানের যৌক্তিক মূল্য পাচ্ছেন না তারা। বর্তমানে ধানের যে দাম, তাতে এক মণ ধান বিক্রি করে এক কেজি মাংসও কেনা যায় না। আসলে সমস্যা কোথাও নেই। সরকার অথবা ফড়িয়া অথবা খুচরা বিক্রেতা! এদের কাউকেই কখনো এ বিষয়ে মাথা ঘামাতে হয়নি। প্রয়োজন না থাকায় সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পেরেছে। কিন্তু যারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কৃষক এবং ভোক্তারা! তাদের না ঘামিয়ে আর কোনো পথ খোলা থাকে না। এখানে একটু বলে রাখা ভালো, কৃষকদের সমস্যা যতটা জটিল, সম্ভবত ক্রেতাপক্ষের ততটা নয়। ক্রেতারা সব সময় বাড়তি দামে কিনতে কিনতে আজ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাজেট কাটছাঁট করে সে তা পুষিয়ে নিতে পারে। কিন্তু কৃষকদের পুষিয়ে নেওয়ার কোনো পথ খোলা থাকে না। তাদের তাকিয়ে থাকতে হয় সরকারের দিকে। সরকার ন্যায্য দামে ধান কিনলে তাদের এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসে।

এদিকে সরকারিভাবে ধান কেনার ঘোষণা দেওয়া হলেও কুড়িগ্রাম জেলায় এখনো সে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়নি। বাজারে জোগান বেশি থাকলেও বেচাকেনা নেই বললেও চলে। স্থানীয়দের অভিমত, স্মরণকালে এবারের মতো ধানের দাম এত কম হতে আর দেখা যায়নি। তাই, লোকসান দিয়ে তারা আর ধান চাষ করবেন না। নিশ্চিত লোকসান হবে এ কথা জানার পরে কোনো পাগলেও বোধহয় সে কাজে এগিয়ে আসবে না। যদি সিদ্ধান্ত হয়েই থাকে জেলার কৃষকরা ভবিষ্যতে ধান চাষের বদলে অন্যকিছুর আবাদ করবেন, তাহলে তাদের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে না পারলেও বলতে হবে তারা ভুল করেননি। সঠিক সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছেন। তবে এ সিদ্ধান্ত যে দেশের জন্য ইতিবাচক হবে না, তা খুব সহজেই বলা যায়। ধানের উৎপাদন কমে গেলে দেশের সার্বিক উৎপাদনে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিষয়টি আমদানিকারকদের জন্য সুখবর হলেও ক্রেতাপক্ষ এবং রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ তার স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিক থেকে পিছিয়ে পড়বে। তা দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের প্রত্যাশা হতে পারে না। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রব্যবস্থা সরকারিভাবে ধান কেনার ব্যাপারে অধিকতর মনোযোগী হয়ে এ সমস্যার স্থায়ী ও দ্রুত সমাধানে এগিয়ে আসবে।

 

"