পুড়িয়ে মারার অপসংস্কৃতি রোধ করতে হবে

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটছে আরেকটি ঘটনা। এ নির্মমতার শেষ কোথায়? কিংবা কীভাবে রোধ করা যাবেÑ এর জবাব যেন অমীমাংসিত থেকেই যাচ্ছে। মানুষের নৈতিকতা ও বোধবুদ্ধি কতটা লোপ পেলে এমন পৈশাচিক ঘটনার জন্ম দিতে পারে, তা কোনো সমাজবিজ্ঞানীর পক্ষেও নিরূপণ করা কষ্টকর। তবে সরকারকে এ ব্যাপারে আরো কঠোর হতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষকে সব ধরনের অনাচার থেকে রক্ষা করতে হবে। কারণ এটি সরকারের দায়িত্ব। যদিও বর্তমান জনবান্ধব সরকার এ বিষয়ে যথেষ্ট তৎপর। তার পরও ঘটছে এসব নিন্দনীয় ঘটনা, যা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার পর আবার রাজবাড়ীতে স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। আর এবারের ঘটনা আরো মর্মান্তিক।

সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, ১২ এপ্রিল স্কুল থেকে ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে জঙ্গলে নিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে শিল্পী বেগম নামে এক প্রতিবেশী মহিলা এবং তার সহযোগীরা। কিন্তু চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে গত বৃহস্পতিবার বোরকা পরা দুই ব্যক্তি এসে বাড়ি থেকে ছাত্রীটিকে পাশের পাটখেতে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা আরো দুই বোরকা পরা ব্যক্তি মিলে ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাগ্যের জোরে মেয়েটি আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। চাঁদা না পেয়ে মানুষকে এভাবে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই। এরই মধ্যে গত রোববার এ হত্যাচেষ্টার মামলার প্রধান আসামি শিল্পী বেগম ও তার ভাগ্নে সেতুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া আলোচিত ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ী পুলিশ সুপার। এর আগে গত শনিবার সকালে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় প্রতিবেশী শিল্পী বেগমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। আমরা এ মামলার সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছি। অন্যদিকে, নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তার খুনিদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। মনে রাখতে হবে, অপরাধীকে বিচারের মুখে ফেলা এবং ভিকটিমের পরিবারের জন্য ন্যায়-বিচার নিশ্চিত করা গেলেই কেবল এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সমাজের নানা ক্ষেত্রে নারী নির্যাতন অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে। বর্বরতার কোন পর্যায়ে গেলে একজন নারীকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা করা হয়, তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। তবে আমরা মনে করি, এসব নির্যাতন রোধে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহল, সর্বোপরি সরকারের কঠোর ভূমিকা থাকলে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ করা সম্ভব আর এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

"