জলবায়ু প্রশ্নে সঠিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

প্রকৃতিকে জয় করেই সভ্যতা এগিয়ে যাবেÑ এটাই স্বাভাবিক। এ জয়ের মাঝে ভালোবাসার আলিঙ্গন থাকবে। বলপ্রয়োগের কোনো চিহ্ন থাকবে না। কিন্তু ভোগবাদী সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ ভুলেছে সেই নান্দনিক বর্ণমালা। ফলে প্রকৃতিও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেনি এ আচরণ। এরই মধ্যে প্রকাশ করতে শুরু করেছে তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। তবু মানুষ তার বোধের শেকড়ে পানি না ঢেলে ভোগবাদের মগডালে ওঠার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। জলবায়ুর এ নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় যখন বিশ্ব এক বিন্দুতে এসে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র এর বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ বেরিয়ে যাওয়াকে মেনে নিতে পারেনি বিশ্বসম্প্রদায়। বাংলাদেশ বলেছে, জলবায়ুর এ নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশে থাকবে বাংলাদেশ।

গত মঙ্গলবার জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা প্রভাব মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ স্থলভূমি পানিতে তলিয়ে যাবে। একই কথা বলেছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থান ঘটলে বাংলাদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিষয়টি আমাদের জানা। বিজ্ঞানীরাও একই কথা বলেছেন। সুতরাং নিজেদের ভবিষ্যতের কথা নিজেদেরকেই ভাবতে হবে। সরকার এরই মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শুধু সরকারের একক দায়িত্বে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সরকারকে সঙ্গে নিয়ে সবাইকে যৌথভাবে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে। অথবা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে এ ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সততার সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে হবে। এ মুহূর্তে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন প্রকৃতির সঙ্গে ভালোবাসার বন্ধন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। প্রকৃতির সঙ্গে বিরূপ আচরণ বন্ধ করতে হবে। বিরূপ আচরণ যারা করছেন, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করাই হবে দেশ-জাতি ও রাষ্ট্রের জন্য একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এবং সরকারকেই নিতে হবে এ গুরুদায়িত্ব।

আমরা মনে করি, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ব্যাপক আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। দুর্ভিক্ষ, ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের ভাবমূর্তি মুছে ফেলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে পরিচিতি লাভে সমর্থ হয়েছে। আমরা আশা করতেই পারি, উন্নয়নের এধারা অব্যাহত থাকবে এবং অচিরেই আমরা একটি উন্নত দেশের কাছাকাছি পৌঁছে যাব। তবে এ কথাও সত্য যে, জলবায়ুর এ নেতিবাচক প্রভাববলয় থেকে নিজেদের রক্ষা করতে না পারলে কোনো উন্নয়নই কাজে আসবে না। উন্নয়নের সব কর্মকান্ডই পানির নিচে তলিয়ে যাবে। সুতরাং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই আগামী পরিকল্পনাকে সাজাতে হবে। সর্বাগ্রে নিজেদের নিরাপত্তাকে নিজেদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সঙ্গে সমমনা দেশের সঙ্গে যূথবদ্ধভাবে জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ সে পথে এগিয়ে চলেছে

বলেই আমাদের বিশ্বাস।

 

 

"