উন্নয়ন-উদ্বোধন এবং অভিনন্দন

প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সাদাকে সাদা বলুন, কালোকে কালো। উপদেশ নয়, অনুরোধ। অনুরোধের পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কার্যকারণ আছে! সোজাসাপ্টা বলতে হয় ‘আছে’। প্রথমত, আমাদের দেশে উপদেশের অভাব নেই। পথে-ঘাটে, অলিগলিতে, রেলে-বাসে, পাড়া-মহল্লায় এবং গ্রাম ও শহরে যত্রতত্র পাওয়া যায়। কিনতে পয়সা লাগে না। লাগলে পণ্যটি এত বেশি সহজলভ্য হতো না। রবিঠাকুরের ভাষায়, ‘না চাহিতে যারে পাওয়া যায়...’।

দ্বিতীয়ত, অনুরোধের বড় অভাব। আত্মাভিমানের জাতি বলে কথা! জাতি তার ইতিহাস আর ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে কাউকে অনুরোধ করতে শেখেনি। উপদেশ দিতে দিতে (নিতে নয়) বয়স পেরিয়ে গেছে সহস্র বছর। তাই অনুরোধ সহজে আসে না। শিখতে হয়। পরিপূর্ণতা পেতে লাগে কমপক্ষে তিন-তিনটি জেনারেশন। অনেক বেশি সেøা আইটেম। ডিমান্ড নেই, তাই সাপ্লাইও যৎসামান্য।

আগেই বলেছি, সত্যকে স্বীকার করতে শিখিনি আমরা। হীনম্মন্যতার চাপে সত্য আজ পলাতক। পলাতক বলেই কালোকে সাদা আর সাদাকে কালো বলায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। কিন্তু এভাবে তো চলতে পারে না, চললে অচিরেই আমরা যে আমাদের অস্তিত্ব হারাব। কালো বা সাদা, রং যাই হোক না কেন, কেউই অস্তিত্ব বিপন্ন করতে চাই না। আর সে কারণেই বলব, ‘উপদেশ নয়, অনুরোধ’।

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে যে গতি সঞ্চার হয়েছে, তা অনেকের কাছে আজ ঈর্ষণীয়। বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ আজ যে সম্মানজনক অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে তার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে আমরা বড়ই কৃপণ। অন্যের কাজের প্রশংসা করলে আমি ছোট হয়ে যাব, এই হীনম্মন্যতায় ভুগছি হাজার বছর। অথচ প্রশংসা কখনোই মানুষকে ছোট কিংবা বড় করে না, করে মহান।

একই দিনে দেশের দুই প্রধান মহাসড়কে ছোট-বড় চারটি সেতু, দুটি উড়ালসড়ক, চারটি আন্ডারপাস চালু হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা ও গোমতী সেতুকে কেন্দ্র করে যানজটের মাত্রা অনেকটা কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অনেকেই। যাতায়াতে সময় বাঁচবে, কমবে দুর্ভোগ। সবচেয়ে বড় কথা, এই রুটে যাতায়াতকারীরা দুর্ভোগের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে সরকারের প্রতি অন্তত একবারের জন্য হলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। মনে রাখতে হবে, এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশই হলো কাজের স্বীকৃতি।

গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। একই সময় গণভবন থেকে ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে বিরতিহীন এক নতুন আন্তঃনগর ট্রেনের চলাচল উদ্বোধন করেন। এখানেই শেষ নয়। আসছে মেট্রোরেল। কাজ অনেকটা এগিয়েছে। আসছে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন। আমরা মনে করি, যা কিছুই হচ্ছে এবং হওয়ার পথে রয়েছে তার সবটুকুই আমজনতার জীবনমানকে উন্নত করার লক্ষ্যে। আর এই লক্ষ্য সামনে রেখে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদের সবাইকে জাতির পক্ষ থেকে সাধুবাদ। আমরা বিশ্বাস করি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক অনুঘটক।

 

"