হতে পারি সততার প্রকৃষ্ট উদাহরণ

প্রকাশ : ২২ মে ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

মিডিয়া কি সত্য বলছে! না পাতানো গল্পের বীজ বুনেছে? এমন তো হওয়ার নয়। বিশেষত, বাংলাদেশের মতো একটি দেশে। এর আগে এখানে এমন কাজ হয়েছে, এমনটা কখনো শুনেছিÑ মনে পড়ে না। মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ আমার মতো অনেককেই বিস্মিত করেছে। ভাবতে হয়েছে, কেমন করে সম্ভব! আলেকজান্ডার এ সময় বেঁচে থাকলে সেলুকাসকে হয়তো সে একই কথা বলতেন, ‘কী অদ্ভুত এই দেশ সেলুকাস’! সে সময় তিনি ইতিবাচক অর্থে বলেননি। এ সময় অবশ্য বাধ্য হতেন ইতিবাচক অর্থে সেই বাক্য উচ্চারণ করতে। তবে সে সময় বাক্যটি উচ্চারণে যে বিস্ময় প্রকাশ পেয়েছিল, এবারও তার ব্যত্যয় হতো না বলেই আমাদের বিশ্বাস। কেননা, আমরা যারাই এ সংবাদটিতে চোখ রেখেছি, তাদের কেউই বিস্মিত না হয়ে পারিনি।

মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ। আর এই নির্ধারিত সময়ের আগে বাংলাদেশে সম্ভবত কোনো প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হলো এই প্রথম। এখানেই শেষ নয়, আরো আছে। তিনটি সেতু নির্মাণের জন্য যে অর্থের বরাদ্দ ছিল, তার চেয়ে কম খরচে নির্মাণকাজ শেষ করেছে নির্মাণকারী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। ‘কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতু পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে সেতু তিনটির কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে এবং হচ্ছে। সেতু তিনটি যৌথভাবে নির্মাণ করেছে জাপানের ওবায়েশি করপোরেশন, সিমিজু করপোরেশন, জেএফই করপোরেশন এবং আইএইচআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিস্টেম কোম্পানি লিমিটেড। তথ্য মতে, হলি আর্টিসান ঘটনার কারণে জাপানি এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ তিন মাস বন্ধ থাকার পরও ইচ্ছা থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই তা শেষ করা যায়, জাপানি ঠিকাদার কোম্পানিগুলো তা প্রমাণ করেছে। তারা প্রমাণ করেছে, সততা এবং নিষ্ঠা থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। পৃথিবীতে একাধিক উপমা থাকলেও আমাদের দেশে তা বিরল। সম্ভবত জাপানি বলেই সম্ভব। জাতি হিসেবে আমরা এ রকম কোনো রেকর্ড গড়তে পারিনি। সততার প্রশ্নে পারিনি এ রকম কোনো উদাহরণ তৈরী করতে। বরাদ্দের টাকা যত্রতত্র খরচ না দেখিয়ে ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে সরকারকে ফেরত দেওয়া হয়েছে ৭৩৮ কোটি টাকা।

ভাবতেও অবাক লাগে। বিগত ৪৭ বছরে এমন একটি ঘটনার অবতারণা করতে পারেনি আমাদের কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ৪৮৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানগুলো একাধারে দুটি উদাহরণ তৈরি করেছে। একদিকে দক্ষতা, যোগ্যতার পাশাপাশি সততা। এ তিনের সমন্বয় আজ তাদের এ উচ্চতায় তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে। আমরা মনে করি, দক্ষতা ও যোগ্যতায় আমাদের কোনো ঘাটতি নেই। সততা...! সেখানেই ঘাটতি। এ ঘাটতি কি কখনোই পূরণ হওয়ার নয়? এ প্রশ্ন সবার। জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ দেশে সততার যে উদাহরণ তৈরি করল, তা অনুসরণ করে আমরা কেন বলতে পারি না, ‘হতে পারি সততার উৎকৃষ্ট উদাহরণ’।

 

"