মানহীন খাদ্য প্রতিরোধ জরুরি

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ এই মৌলিক অধিকারটিও আজ চরম ভয়াবহতার শিকার। অতি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীদের একটি চক্র ভেজাল ও মানহীন খাদ্য বাজারে সরবরাহ করে মানুষের জীবনকে শঙ্কার মধ্যে ফেলছে। তারা কোনো বিধিনিষেধ কিংবা আইনকানুনের তোয়াক্কা করে না। এরই মধ্যে নিম্নমানের পণ্য হিসেবে চিহ্নিত ৫২টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে আরো দুটি পণ্যের উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। পাশাপাশি ২৫টি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। এমনকি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এর সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক প্রচার বন্ধ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাসঙ্গিকতায় বলতে চাই, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যারা ব্যবসার নামে মানহীন খাদ্যে বাজার সয়লাব করতে চান, তাদের প্রতি কোনো অনুকম্পা নয় বরং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভেজাল প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা মনে করি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা এবং মানুষের সচেতনতার মধ্য দিয়ে দেশে মানহীন খাদ্য উৎপাদনকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বিএসটিআইয়ের ল্যাব পরীক্ষায় ধরা পড়া ৫২টি নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের এবং এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের যে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট, তার দ্রুত বাস্তবায়ন কাম্য। সম্প্রতি বাজার থেকে ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর বিএসটিআই সম্প্রতি ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে, যার মধ্যে ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমানের বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মনে রাখতে হবে, খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া এ সমস্যা থেকে উত্তরণে প্রতিটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ দরকার। দেশে রমজান মাসসহ বিভিন্ন সময়ে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। তবে সারা দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। তাছাড়া এসব অভিযানে ভেজাল পণ্য বিক্রির দায়ে যে সাজা দেওয়া হয়, তা মোটেই গুরুদন্ড নয়। ফলে ভেজাল প্রতিরোধে এসব অভিযানের কার্যকারিতা সামান্যই। এ-সংক্রান্ত আদালতের বক্তব্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, শুধু রমজানে ভেজালবিরোধী অভিযান কাম্য নয়, এটা চলা উচিত সারা বছর।

আমরা আশা করি, খাদ্য নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন শুধু কর্মকর্তা হিসেবে কাজ না করেন, তারা যেন দেশপ্রেমিক হিসেবে জনগণের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। বস্তুত আইনের যথার্থ প্রয়োগ, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা এবং মানুষের সচেতনতাই পারে দেশে মানহীন খাদ্যের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে। ইতোপূর্বে এ ক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপেও যেহেতু কাক্সিক্ষত ফল মেলেনি, তাই ভেজাল ও মানহীন খাদ্যের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক পদক্ষেপ আমাদের কাম্য।

 

"