পর্যালোচনা

ইসরায়েলের স্বীকৃতি ও আরব বিশ্ব

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

রায়হান আহমেদ তপাদার

বৈশ্বিক পররাষ্ট্রনীতিতে একটি কথা প্রচলিত আছে, শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু অর্থাৎ অভিন্ন স্বার্থ প্রবল শত্রুকেও খুব কাছের দোস্তে পরিণত করে। তাই সময়ের এক অনিবার্য ধারাবাহিকতায় বিশ্ব মুসলিম সেন্টিমেন্ট উপেক্ষা করে সৌদি আরব এখন মৈত্রী গড়েছে মুসলিম নিধনকারী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে। ২০১৭ সালের জুনে মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদির যুবরাজ নিযুক্ত হওয়ার পর এ দুটি দেশের এক কাতারে এসে দাঁড়ানোর পেছনে সিরিয়া ও ইয়েমেনের রাজনৈতিক গোলযোগ সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখলেও তাদের একে অন্যের প্রতি দরদের বিষয়টি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডের পর বিশ্বের কাছে আরো ভালোভাবে উন্মোচিত হয়।

আমেরিকা নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের বহুল উচ্চারিত সেøাগান ছিল মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন। আর এই গ্রেটনেসকে অর্জন করতে গিয়ে তিনি যেভাবে অগ্রসর হচ্ছেন, তা নিয়ে খোদ তার নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেই শঙ্কার ভাঁজ পড়ছে। জেরুজালেম এমন একটি স্পর্শকাতর ইস্যু, যা বলতে গেলে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি একই সঙ্গে মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত বিধায় শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পক্ষ কখনো এ বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক অভিমত দেয়নি। এত দিন ধরে যেহেতু মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অর্জন সম্ভব হয়নি, সেক্ষেত্রে বাস্তব অবস্থার আলোকে ইসরায়েলকে ক্ষমতায়িত করে তাদের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিন ও অন্যান্য আরব পক্ষকে প্রয়োজনীয় ছাড় দেওয়ার কর্তৃত্ব দিয়ে দিলে সংকট সমাধানে তা অধিকতর অর্থবহ হতে পারে।

কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। মধ্যপ্রাচ্যে এ মুহূর্তে ইরানকে কোণঠাসা করাই যুক্তরাষ্ট্রের আসল লক্ষ্য এবং সেটা করার দরকার তাদের আজন্ম বন্ধুরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষার তাগিদে। গত বছরও সিরিয়ায় ইরানি বহরের ওপর ইসরায়েলি হামলা এ যুক্তিকেই আরো শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছে। আবার একইভাবে ইসরায়েল এমন একসময় এ হামলা চালিয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র মাত্র দুই বছর আগে ইরানের সঙ্গে করা ছয় জাতি চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ চুক্তিকে বাস্তবসম্মত নয় এবং ইরান এই চুক্তি মেনে চলছে না বলে অভিযোগ করলেও তার ইউরোপীয় তিন মিত্রসহ রাশিয়া ও চীন এমন অভিযোগকে নাকচ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে। এ অবস্থায় সার্বিকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য রাশিয়া-ইরান এবং চীন-ইরান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ভবিষ্যতে একটি অবশ্যম্ভাবী সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে। আর এখানেই গোলান মালভূমি নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্তের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সাম্প্রতিক সময়ে এক নতুন প্রেক্ষাপটের মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে সংকটকে আরো বড় পরিসরে উসকে দিয়েছে।

অথচ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের আগের নীতি থেকে সরে আসা হিসেবে চিহ্নিত করলেও খুব ভালো করে খেয়াল করলে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন পদক্ষেপ বিস্ময়কর কিছু নয়। এ ছাড়া অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্র তেলআবিবের পরিবর্তে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনে এমন একটি দিন বেছে নিয়েছিল, যেদিনে ৭০ বছর আগে তারা ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিরা এই দিনটিকে পালন করে আসছে ইসরায়েলের দখলদারিত্বে তাদের উদ্বাস্তু হওয়ার দিন হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রহসনের মধ্য দিয়ে তারা তেলআবিব থেকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতিও দিয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা ও আপত্তি উপেক্ষা করে মার্কিনদের এমন সিদ্ধান্ত যে, কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, তা বলে দিতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার হয় না। যদি এটাই সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে যে, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে মানুষের মনে যে ধারণা রয়েছে, সেটাকে মেনে নিয়েই সে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হবে। তা হলে বলতে হবে, এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের একটি কাজ এবং তা মোকাবিলা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলে আর কিছু নিজস্ব সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে সংগ্রাম করতে হবে। যেমন ইরানের উত্থান, সিরিয়া নিয়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার পরস্পরবিরোধী অবস্থান, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছয় জাতির চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়া এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বোঝাপড়া।

উল্লিখিত প্রতিটি ঘটনার দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাব, এগুলো কোনো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট ঘটনা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে একতরফা সৃষ্ট। অর্থাৎ বলতে গেলে ইচ্ছাকৃতভাবেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখা, যা যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের অনেক নীতি। বিশেষ করে জর্জ ডব্লিউ বুশের নীতির সঙ্গে মিলে যায়। ট্রাম্পের এমন সব নীতি কেনইবা বুশের আক্রমণাত্মক নীতির অনুরূপ, সেটা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হবে। ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর হঠাৎ দূতাবাস স্থানান্তর-সংক্রান্ত ট্রাম্পের ঘোষণা মার্কিন রাজনীতিতে ইহুদি লবির শক্তিশালী অবস্থান ও ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অপরিহার্যতাকেই প্রমাণ করে। এর আগে ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিলেও মধ্যপ্রাচ্যে নিজের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা বহাল রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে কোনো প্রেসিডেন্টই এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে বিশেষ ডিক্রিবলে এত দিন ধরে তা স্থগিত করে এসেছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, এসব সিদ্ধান্তের পক্ষে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনেক যুক্তি দেখানো হচ্ছে। আর মূল যুক্তি হচ্ছে, তারা আইনগতভাবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধ্য। কারণ এটা কংগ্রেসে পাস করা সিদ্ধান্ত। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ার একটি পাথুরে মালভূমি হচ্ছে এই গোলান। জায়গাটা বেশি বড় নয়; কিন্তু এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। গোলান মালভূমি থেকে মাত্র ৪০ মাইল দূরে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক শহর এবং দক্ষিণ সিরিয়ার একটি বড় অংশ স্পষ্ট দেখা যায়।

সিরিয়ান সেনাবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য এটা এক আদর্শ জায়গা। তাছাড়া পার্বত্য এলাকা বলে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর কোনো সম্ভাব্য আক্রমণের পথে এটা একটা চমৎকার প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। অথচ এটি প্রাকৃতিক পানির উৎস। উল্লেখ্য, গোলান মালভূমি থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে জর্ডান নদীতে। আর এটি হচ্ছে ইসরায়েলের পানি সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের উৎস। কাজেই এ কথা স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ তার ধারাবাহিক নীতির ফসল এবং তা মধ্যপ্রাচ্যে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই গৃহীত। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সিরীয় ভূখন্ড গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরায়েল। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল জায়গাটি দখল করার পর এখানকার সিরিয়ান আরব বাসিন্দারা অধিকাংশই পালিয়ে যায়। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে সিরিয়া এটি পুনর্দখলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল গোলানকে নিজের অংশ করে নেয় একতরফাভাবে। তবে ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বের স্বীকৃতি দেয়নি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। যুক্তরাষ্ট্র এবার সেই স্বীকৃতি দিলেও আন্তর্জাতিক অন্য শক্তিগুলো এটিকে ভালোভাবে নেয়নি। একই সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, গাজা থেকে রকেট নিক্ষেপের ঘটনার পর গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। এই ঘোষণা থেকে এ কথা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান, পরিকল্পিতভাবে সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে ইসরায়েল তাদের ক্রমাগত দখলদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাবে।

২০০৫ সালের হিসাবমতে, জেরুজালেমে ৭,১৯,০০০ মানুষ বাস করত, যার ৪,৬৫,০০০ ইহুদি আর ২,৩২,০০০ মুসলিম। ইহুদিরা পশ্চিমে আর মুসলিমরা পূর্বদিকে বাস করে। এই ভূখন্ড এবং বিশেষত জেরুজালেম একেশ্বরবাদী তিন ধর্মের কাছেই পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। ফলে মূল সংকট হচ্ছে এর অধিকার নিয়েই। ধর্ম দিয়ে এর সূচনা হলেও বর্তমানে এই সংঘাত ভূ-রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ কাজে ব্যবহার করছে বড় শক্তিগুলো। আর সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সম্প্রতি নতুন সংকটের পথ তৈরি করে দিয়েছে। যে ইসরায়েলের অস্তিত্বই ছিল না, ক্রমাগত দখলদারিত্বের মধ্য দিয়ে আজ রাষ্ট্র হিসেবে সেটি বিশাল অবয়ব নিয়ে মানচিত্রে হাজির হয়েছে। আমরা চাই বা না চাই, এই দৈত্যের উত্থান ঠেকানো না গেলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, আগামীর বিশ্বও সংকটাপন্ন হবে। এদিকে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করার মধ্য দিয়ে এমনিতেই নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধরেখা টেনে রেখেছেন ট্রাম্প। ইউরোপীয়, রুশ ও চীনা স্বাক্ষরকারীরা নিজেদের এ চুক্তিতে যুক্ত রেখেছে। আর এ ক্ষেত্রে ইরানবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে তেহরানের শত্রু দেশ সৌদি আরব। সে কারণেই খাশোগি হত্যার ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে নিন্দার ঝড় উঠেছে, তাতে বেকায়দায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। এর পরও সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া জনগোষ্ঠীকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে ইরান; যা ইসরায়েল তার ভূখন্ডের জন্য এবং সৌদি আরব তার রাজতন্ত্রের জন্য হুমকি মনে করে। যার ফলে তুরস্ক ও ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের এক ও অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তুরস্কের প্রভাব ঠেকানোর প্রচেষ্টায় ৩৩ বছর বয়সি যুবরাজকে নিজেদের পাশে রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এখন প্রশ্ন হলোÑ মধ্যপ্রাচ্যে এমন পরিস্থিতিতে আরব নেতাদের কেন আমরা শক্ত ভূমিকায় দেখতে পাচ্ছি না? কারণ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এখন এই পরিষ্কার ও আনুষ্ঠানিক অবস্থানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে অন্ততপক্ষে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা নিয়ে আর কোনো কিছু প্রাপ্তির সুযোগই অবশিষ্ট থাকবে না। এখন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে চীন ও রাশিয়া কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখার জন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

raihan567@yahoo.com

 

"