দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই সময়ের দাবি

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বন্ধ হয়নি মানব পাচার। সম্ভবত প্রাণী ও জীবজগতের জন্মলগ্ন থেকেই অভিবাসন প্রক্রিয়ার শুরু। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে তারা বারংবারই এ প্রক্রিয়ার শরণাপন্ন হয়েছে। এখনো সে প্রক্রিয়া সমানভাবেই অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লিখিত হতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রক্রিয়ারও রদবদল হলেও বেঁচে থাকার তাগিদে থেমে থাকেনি এক দেশ থেকে অন্যত্র পাড়ি দেওয়ার সনাতন চিন্তার। মানুষ এখনো দেশান্তরী হচ্ছে এবং আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে।

মানুষ যত সভ্য হয়েছে ঠিক ততটাই সীমাবদ্ধ হয়েছে নিয়মকানুন বা আইনের বৃত্তাবরণে। আইনের আওতায় থেকে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে আজ নিজেকে সরিয়ে নেওয়া যায়। কাজটি কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছে পৃথিবী। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার বিপরীতে যখন মানুষ চলতে চেষ্টা করে, তখনই নেমে আসে বিপর্যয়। যে বিপর্যয়ের ফলাফল মৃত্যু পর্যন্ত গড়াতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশকেও এ রকম একটি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মানব পাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে জীবন দিতে হয়েছে বেশ কিছু হতভাগ্য মানুষকে। বেআইনিভাবে বিপজ্জনক পথে বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে পরিবারের সর্বস্বসহ নিজেকেও দিতে হয়েছে বিসর্জন।

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ঘটেছে নৌকাডুবির ঘটনা। গত বৃহস্পতিবার তিউনিসিয়ার উপকূলে ভূমধ্যসাগরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় কতজন বাংলাদেশি নাগরিকের সলিল সমাধি হয়েছে তা জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত ৩৯ বাংলাদেশির নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লাশ পাওয়া গেছে চারজনের। উদ্ধার করা হয়েছে ১৪ জনকে। এরা বাংলাদেশের নাগরিক। মৃত চারজনের মাঝে একজন বাংলাদেশি।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের একটি চক্র ও মাদারীপুরের দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, ২০০৫ সালে বাংলদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। বর্তমানে তা কমে হয়েছে ২১ শতাংশ। মোট দেশজ উৎপাদন গত চার বছরে অব্যাহতভাবে ৭ থেকে বেড়ে ৮ শতাংশকে স্পর্শ করেছে। একই সঙ্গে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৫ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ ডলার হয়েছে। তবে এ কথাও সত্য যে, এ সময়ে বেকারত্বের হার কমেনি। পছন্দমতো কাজ পাচ্ছেন না অন্তত ৬৬ লাখ নারী ও পুরুষ। পাশাপাশি আরো একটি সত্য এই যে, অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এখন আর কেউই বিদেশে পাড়ি জমান না। মরিয়া হয়ে যারা বিদেশে যাচ্ছেন তারা উন্নত জীবন প্রাপ্তির আশায় এত সব ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে দেশের বাইরে পা রাখছেন। আর এভাবে যারা যাচ্ছেন এবং এদেরকে যারা উন্নত জীবন পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নৌকার মাঝি হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন তারা আইনের চোখে অপরাধী। তবে আইনের চোখে পাচারকারীদের অপরাধের মাত্রা অনেক বেশি।

আমরা মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এতটা নাজুক নয় যে, এভাবে আমাদের বিদেশে পাড়ি জমাতেই হবে। বিদেশে যাওয়ার জন্য যে টাকা পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তা দিয়ে এ দেশেও অনেক কিছুই করার আছে। আমরা সে পথে চেষ্টা করলে সফলতা আসার সম্ভাবনাও কম নয়। একই সঙ্গে সরকারের প্রতিও পরামর্শ থাকবেÑ পাচারকারী হিসেবে যারা চিহ্নিত হবেন তাদের যেন কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। এ কথা মনে রাখা জরুরি যে, এসব পাচারকারীই দেশ-জাতি ও রাষ্ট্রের পরম শত্রু। শত্রু মানবতার।

 

"