আস্থা ফিরে আসুক রাইড শেয়ারিংয়ে

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

শুরুতে জনপ্রিয়তায় কোনো ঘাটতি ছিল না। যানজট থেকে স্বস্তি, নিরাপদ ও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং, কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে এ সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলÑ এ কথা সত্য। জনপ্রিয়তাও এসেছিল রকেট গতিতে। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সুনাম হারাতে বসেছে এই পরিবহনব্যবস্থা। নিরাপত্তা ও আইনের প্রশ্নেও পিছিয়ে পড়েছে রাইড শেয়ারিং। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখা রাইড শেয়ারিং শুরুতে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তুলতে সক্ষম হলেও, এখন সেই গ্রহণযোগ্যতার শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্বকীয়তা হারাতে বসেছে অ্যাপসভিত্তিক এই সেবা।

অভিযোগের তালিকা খুব দীর্ঘ না হলেও তাকে কম বলা যাবে না। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, নিয়ম না মেনে রাইড দেওয়া, রাতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি দাবি করা, অসাধু চক্রের দৌরাত্ম, যৌন হয়রানির শিকার হওয়া, অদক্ষ চালকের কারণে দুর্ঘটনা, ট্রাফিক আইন না মেনে পথ পরিক্রমণ ও মাত্রাতিরিক্ত গতিতে যান চালানো। এ ছাড়া অ্যাপস ব্যবহার করে বাইক বা গাড়ি চালাতে যেসব কাগজপত্র রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রহণ করে, তার সত্যতা যাচাইয়ের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কাউকে রাইডার হতে হলে প্রথমত থাকতে হবে অ্যান্ড্রয়েড ফোন। থাকতে হবে ড্রাইভিং লাইসেন্স। বাইক বা কারের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক এবং সেই সঙ্গে পরিচয়পত্রের জোগানও নিশ্চিত করতে হবে। রাইডাররা এসব কাগজপত্রের সরবরাহ করে থাকলেও তার সত্যতা যাচাইয়ের কোনো কার্যক্রম নেই প্রতিষ্ঠানটির। সম্প্রতি রাজধানীতে ‘উবার মোটো’র দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী নিহত হওয়ার পর মোমের নিচে যে অন্ধকার থাকেÑ তা বেরিয়ে এসেছে। ঘটনায় পুলিশ তদন্তে বেরিয়ে আসা তথ্যে বলা হয়, উবারচালক ঠিকানাসহ যেসব কাগজপত্র জমা দিয়ে নিবন্ধন করেছিলেন, তার সবই ছিল ভুয়া। এর সবকিছুই যাত্রী নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকিস্বরূপ। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য চালকের ওপর ভরসা করা ছাড়া যাত্রীদের আর কোনো পথ খোলা থাকে না।

রাইড শেয়ারিংয়ে চালককে চেনা সম্ভব নয়। শুধু প্রতিষ্ঠানের ওপরে ভরসা করেই গাড়িতে চড়তে হয়। কিন্তু এ ব্যবস্থাপনা যদি এমন দুর্বল ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়, তাহলে নিরাপত্তা কোথায়! সমাজের অনেক নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে এটি আরো একটি সংযোজন মাত্র। শুরুতেই যদি একে কঠোর একটি ব্যবস্থাপনার বৃত্তে আটকানো না যায়Ñ তাহলে, একটি ইতিবাচক প্রকল্পের যে অপমৃত্যু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায়। আমরা মনে করি, বড় মাপের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সাবধান হওয়া দরকার। সরকার নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে কঠিন সিদ্ধান্ত দেবেÑ এটাই প্রত্যাশা।

 

"