চায়ের বাজারে সুখবর

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

চায়ের নতুন নিলাম মৌসুম শুরু হয়েছে। আর শুরু থেকেই পানীয় পণ্যটি তুলনামূলক বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। সুখবর তো বটেই। বাড়তি দামে বিক্রি হলে মালিক থেকে শুরু করে শ্রমিকের আকাক্সক্ষাও কিছুটা বাড়ে। তারা নতুন করে আরো ভালো থাকার স্বপ্ন দেখার সুযোগ পান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, মালিকপক্ষের আকাক্সক্ষা পূরণ হলেও শ্রমিকদের চাহিদার কোনো উল্লম্ফন কখনো দৃষ্টিগোচর হয় না। আমরা আশা করব, মালিকরা নিজেদের লভ্যাংশ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের কল্যাণে এক পা হলেও এগিয়ে আসবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন মৌসুমের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক নিলামে ভালো মানের চায়ের চাহিদার প্রবণতা বেশ ভালো। তুলনামূলক বিচারে ঊর্ধ্বমুখী। ফলে নিলামে পানীয় পণ্যটির দামও আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। তবে উৎপাদন আর না বাড়লে চলতি মৌসুমজুড়ে দেশীয় নিলামঘরে চায়ের দাম বাড়তির দিকেই থাকবে। বাংলাদেশ টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএ) তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত দুটি আন্তর্জাতিক চা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। চায়ের বাজারে বিদ্যমান চাঙাভাবের কারণ সম্পর্কে ন্যাশনাল ব্রোকার্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাড়তি চাহিদাই চায়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মৌসুমের প্রথম দুটি নিলামে চায়ের সরবরাহ বাড়তির দিকে ছিল। এ সময় সরবরাহ করা চায়ের ৮০ শতাংশই বিক্রি হয়ে গেছে। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মানের চা বেশি কিনেছে। আর এসব চায়ের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় নিলামে পানীয় পণ্যটির দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। অর্থাৎ মানের উন্নতির কারণে পণ্যের মর্যাদাও বৃদ্ধি।

আমরা মনে করি, ভালোর প্রতি সবার আকর্ষণ সব সময়ই বেশি থাকে। আর একই কারণে ভালো মানের চায়ের প্রতি ক্রেতাপক্ষের চাহিদাও বেশি। পরবর্তী নিলামে মানের পরিবর্তন না হলে চাহিদার অবনমন হবে না। তবে তথ্য বলছে, আগামী নিলামে এ মান কতটুকু বজায় থাকবে, তা নিয়ে কিছুটা হলেও সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। আর এ কারণেই আমরা বাগান মালিকদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, মানের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করাটাই হবে দেশ ও জাতির জন্য বিশেষ উপহার। পাশাপাশি এ কথাও সত্য যে, চাহিদা যখন বাড়ছে, তখন মানের দিকে তাকাতে অসুবিধা কোথায়! দেশে প্রতি বছর চায়ের ব্যবহার ৪-৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। কিন্তু চা বাগান চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। বিশেষ করে ভালো মানের চা সরবরাহের ক্ষেত্রে। আমরা মনে করি, বাগান মালিকদের এ ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে হবে। নতুন প্রযুক্তির কথা মাথায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে যারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত তাদের জীবনযাপনের কথাও ভাবতে হবে। এরা অবহেলিত থাকলে উৎপাদনেও তার প্রভাব পড়বে। এ প্রভাবের বাইরে থাকতে চায় দেশের ১৬ কোটি মানুষ। আশা করি, ১৬ কোটি মানুষের এ প্রত্যাশা পূরণে চা বাগান মালিকরা নিশ্চয়ই

এগিয়ে আসবেন।

 

"