ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকুক

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

খাদ্যে ভেজাল নিয়ে আতঙ্কিত মানুষ। দিন দিন এর ব্যাপ্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে রমজানে খাদ্যে ভেজালের এই প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করে। অতি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষভাবে এই অবৈধ কর্মটির সঙ্গে যুক্ত। দেশি-বিদেশি সব ধরনের গবেষণায় দেশে খাবারের বিষক্রিয়ার বিষয়টি বারবার ওঠে আসছে। সম্প্রতি বিএসটিআই ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমানের বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, এসব পণ্যের মধ্যে দেশের অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের তেল, ঘি, সেমাই, নুডলস, মসলা, পানিসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে, যা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। তবে জনসচেতনতা ও প্রশাসনিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন ছাড়া ভেজালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা অসম্ভব।

রমজানে ভোক্তাদের ভেজালমুক্ত খাদ্য এবং পণ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ সারা দেশে নিয়মিত ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। পাশাপাশি ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও মহানগরীতে প্রতিদিন অতিরিক্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কর্মসূচি চলছে। আর এতে বেরিয়ে আসছে অভিনব সব তথ্য। ইফতারের অপরিহার্য পাঁচটি সামগ্রী যেমনÑ ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, মুড়ি ও জিলাপির প্রতিটিতেই নানাভাবে মেশানো হয় ভেজাল। মুড়ি আকারে বড় ও সাদা করতে ব্যবহৃত হচ্ছে ট্যানারির বিষাক্ত রাসায়নিক সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইড। বেগুনি, পেঁয়াজু, চপ কিংবা জিলাপিতে ব্যবহৃত হচ্ছে টেক্সটাইল কালার। সেমাই ও নুডলস তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া ময়দা, পাম অয়েল, অ্যারারুট, সাবান তৈরির রাসায়নিক উপাদান এবং এক ধরনের রাসায়নিক পাউডার। ঘি তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যধিক পরিমাণ পাম অয়েল, অতি নিম্নমানের ডালডা, বেকারি ঘি ও রাসায়নিক রং। কিছুদিন আগে দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করা মরিচের গুঁড়ার ২৭টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই ক্ষতিকর উপাদান পেয়েছিল সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। এ ছাড়া হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন গুঁড়া মসলায় ইট ও কাঠের গুঁড়া, তুষ ইত্যাদি ভেজাল মেশানো হচ্ছে। বারডেম পরিচালিত এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক বিষের কারণে দেশে প্রতি বছর অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্যানসার, ২ লাখ ২০ হাজার ডায়াবেটিস, ২ লাখ কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও প্রায় পৌনে ৩ লাখ মানুষ ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া পেটের পীড়া, লিভার, অ্যালার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দেশের লাখ লাখ মানুষ।

সারা দেশে বিএসটিআইর আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আমরা আশা করি, ভেজাল পণ্য ও অসাধু ব্যবসায়ীদের ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে ভেজালকারীদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে আসবে। তবে ভেজাল ঠেকাতে সচেতনতার বিকল্প নেই। আইন দিয়ে ভেজাল ঠেকানো সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমরা আশা করব, আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে সরকার খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

"