রফতানি পণ্যের সম্প্রসারণ চাই

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের রফতানি আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্য। এ দেশে মূলত দুই ভাগে রফতানি পণ্যের বিভাজন। ১. প্রাইমারি কমোডিটিজ। ২. ম্যানুফ্যাকচারড। প্রাইমারি বা প্রাথমিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে হিমায়িত ও তাজা মাছ এবং কৃষিজপণ্য। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে দেশ থেকে হিমায়িত ও তাজা মাছের রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ সময় উল্লিখিত পণ্য রফতানি হয়েছে ৪৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের। কৃষিজপণ্যের রফতানিও ঊর্ধ্বমুখী। তুলনামূলক বিচারে একই সময়ে বৃদ্ধির পরিমাণ ৪৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এপ্রিলে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে ৩০৩ কোটি ৪২ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। তবে অনেক ক্ষেত্রে রফতানি আয় বাড়লেও কমেছে অন্যতম প্রধান দুটি পণ্যের ক্ষেত্রে। পাট ও পাটজাত পণ্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কমলেও কমার কারণগুলো চিরকাল অজানাই থেকে যাচ্ছে। যদিও এ নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। গবেষণালব্ধ জ্ঞান পুরো জাতির ললাটে কম জোটেনি। কিন্তু জট খোলেনি। সম্ভবত এ জট খোলার নয়। তবে অর্থমন্ত্রী কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাবশালী ২০ দেশের তালিকায় স্থান পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেছেন, এ সময় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে প্রায় এক শতাংশ অবদান রাখতে পারে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে একই সম্ভাবনার কথা বলেছে ব্লুমবার্গের এক জরিপ। জরিপ বিশ্লেষণে বাংলাদেশের এ সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে চীন। ক্রমানুসারে দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত। তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্র। এভাবে চলতে চলতে তালিকার শেষপর্যায়ে এসে কানাডা ও বাংলাদেশের অবদান থাকবে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ করে। বাংলাদেশের জন্য এটিও কম নয়। এত অল্প সময় এবং প্রচ- প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে একসময়ের তলাবিহীন ঝুড়ির এ অর্জন, সত্যিকার অর্থেই আমাদের জন্য গর্বের। কেবল অল্প কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আমরা আমাদের উন্নয়নের গতিকে সøথ করে ফেলছি।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রফতানি খাত এখনো বহুমুখী হয়ে উঠতে পারেনি। মোট রফতানির ৮৩ দশমিক ৯৫ শতাংশের উৎস এখনো তৈরি পোশাকের বৃত্তেই সীমাবদ্ধ। পণ্যটির রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলেই সামগ্রিক রফতানি খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। আমরা মনে করি, কেবল এই খাতের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। তাকে নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করতে হবে। আর সে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য এ মুহূর্তে সবার আগে দরকার প্যালিথিন ব্যাগের স্থলে স্থায়ীভাবে পাটের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার নিশ্চিত করা। এ প্রশ্নে অনেক কথা হয়েছে, আইন হয়েছে, পলিব্যাগ উৎপাদন ও ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও ফলাফল শূন্য। আমরা বিশেষভাবে মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক উল্লম্ফনের এ ধারাকে সমুন্নত রাখার জন্য এ শূন্যতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। উৎপাদন এবং সরবরাহ বন্ধ হলেই সবকিছুই বন্ধ হয়ে যাবে। আশাকরি, সময়ের এ দাবির সঙ্গে সরকারও একমত হয়ে পলিব্যাগ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

"