আমাদের আরো সতর্ক থাকতে হবে

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দিনটি ছিল রোববার। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পরম আনন্দের ‘ইস্টার সানডে’। সেই উপলক্ষে গির্জায় চলছিল প্রার্থনা, সমাগমও ঘটেছিল প্রচুর। অথচ এই দিনটিই কি না রক্তাক্ত হলো সহিংসতার নগ্ন থাবায়। তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে একাধিক বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন ৩০০ জন। আহত হয়েছেন ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। বোমা হামলায় নিহত হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান। এ ছাড়া তার জামাতার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তিনি কলম্বোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলঙ্কায়। ছোট্ট ও সুন্দর এই দেশটি জুড়ে এখন শোকের ছায়া। মাত্র কিছুদিন আগে আক্রান্ত হয়েছিল আরেক দ্বীপ দেশ নিউজিল্যান্ড। এমনই এক সহিংস ঘটনায় সেখানে অর্ধশত মানুষ হত্যাকা-ের শিকার হয়েছিল। এবার তারই পুনরাবৃত্তি ঘটল শ্রীলঙ্কায়। এই পৈশাচিক ঘটনায় বিশ্বজুড়ে বয়ে যাচ্ছে নিন্দার ঝড়, আক্রান্ত দেশটির প্রতি বাংলাদেশসহ সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছে পুরো বিশ্ব।

হামলার সূত্রপাত স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। রাজধানী কলম্বো থেকে ২০ মাইল দূরে নেগোম্বোতে সেন্ট সেবাস্তিয়ান চার্চে প্রথম হামলাটি চালানো হয়। এরপর একে একে আরো দুটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে পালাক্রমে বোমা হামলা চালানো হয়। রক্তাক্ত গির্জার ছবি মুহূূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আটটি হামলার মধ্যে দুটি হামলা আত্মঘাতী ছিল বলেও জানা গেছে। বিস্ফোরণের ধরন ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নন দেশটির কর্মকর্তারা। তবে ইস্টার সানডের আয়োজনকে কেন্দ্র করে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। বর্বরোচিত এ হামলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী নেতা। অন্যদিকে এ হামলাকে গত এক দশকের এবং সম্ভবত গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা বলে মানতে হবে। একসঙ্গে ছয়টি হামলা চালানোর ঘটনায় স্পষ্ট, এটি একটি একক গোষ্ঠীর হামলা এবং অত্যন্ত পরিকল্পিত। হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এবং বিদেশি পর্যটকদের ওপর। দিন হিসেবে এমন দিন বেছে নেওয়া হয়েছে, যার ব্যাপক ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে।

তবে কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। শ্রীলঙ্কান সরকার বলছে, তারা হামলাকারী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। হামলার পর প্রধানমন্ত্রী এবং হামলার আগে পুলিশপ্রধান অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকেই হামলার জন্য দায়ী করেছেন। কিন্তু তাদের দুজনের সূত্র একই কি না, তা আমাদের জানা নেই। তবে এমনটা অনুমান করাই স্বাভাবিক। যেকোনো দেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য স্থানীয় লোকজনের সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন হয়। কোথাও কোথাও এর ব্যতিক্রম ঘটে। তবে যে বা যারা এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকুক না কেন, তাদের কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ সন্ত্রাসীরা সব দেশের শত্রু। সুযোগ পেলে তারা নগ্ন থাবা বিস্তারের চেষ্টা করবেÑ আর এটাই স্বাভাবিক। সে বাস্তবতায় আমাদের দেশকেও আগের তুলনায় আরো সতর্ক থাকতে হবে। যাতে কোনোভাবেই কোনো অপশক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।

 

"