রহমতের রাত শবেবরাত

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

‘শবেবরাত’! যেসব শ্রেষ্ঠ রাত মহান আল্লাহতায়ালা মানুষকে দান করেছেন, তার মধ্যে পবিত্র ‘শবেবরাত’ একটি। চন্দ্র বছরের অষ্টম মাসের নাম ‘শাবান’। এ মাসের ১৪ তারিখ রাত হলো এই পবিত্র শবেবরাতের রাত। ‘শব’ ফারসি শব্দ, যার বাংলা অর্থ রাত। আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ মুক্তি, পরিত্রাণ, নিষ্কৃতি ও নাজাত। আর সে কারণেই ‘শবেবরাত’-এর অর্থ হলো মুক্তির রাত। এ ছাড়া অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ, মনীষী ও পীর-বুজুর্গ এ রাতকে ‘লাইলাতুল রহমাহ’ (রহমতের রাত) ‘লাইলাতুল মাগফিরাহ’ (ক্ষমার রাত), আবার অনেকেই ‘লাইলাতুল মুবারাকাহ’ও (বরকতপূর্ণ রাত) বলেছেন। অনেক তাফসিরকারকের মতে, পবিত্র কোরআনের ‘সুরা হামিম’-এর প্রথম আয়াতগুলো শবেবরাতের ফজিলত বোঝাতে অবতীর্ণ হয়েছে। এক কথায় পবিত্র ‘শবেবরাত’ মুসলমানদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ রাত।

পবিত্র হাদিসে শবেবরাত সম্পর্কে অনেক বর্ণনা আছে। হজরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, তোমরা শাবান মাসের ১৪ তারিখের রাতে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন হও, কেননা ওই রাত অত্যন্ত বরকতময়। ওই রাতে আল্লাহতায়ালা ক্ষমাপ্রার্থনাকারী বান্দাদের ক্ষমা করেন। হাদিসে বলা হয়েছে, একসময় হজরত ঈসা (আ.) হজরত জিব্রাইলের মারফত আল্লাহর কাছে প্রশ্ন করলেনÑ হে প্রভু! বর্তমানে আমার চেয়ে বেশি বুজুর্গ ব্যক্তি আছে কি? উত্তরে আল্লাহ বলেন আছে! তখন ঈসা (আ.) বলেন কোথায়? আল্লাহ বলেন, তোমার সম্মুখের পাথরখানা সরিয়ে দেখ। ঈসা (আ.) পাথর সরাতে না পেরে ইতস্তত করতে লাগলেন। আল্লাহ হুকুম দিলেন, হে ঈসা! তোমার হাতের লাঠি দিয়ে এতে আঘাত করো। হজরত ঈসা (আ.) আল্লাহর আদেশে তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে আঘাত করা মাত্র পাথর দ্বিখ-িত হলো। তখন ঈসা (আ.) দেখতে পেলেন, ওর ভেতরে একজন দরবেশ তাসবিহ হাতে আল্লাহর ধ্যানে মশগুল আছেন এবং তার সম্মুখে একটি আনার ফল। তখন ঈসা (আ.) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে মান্যবর! আপনি কে এবং কত দিন ধরে এ ধরনের ইবাদত করছেন? তা ছাড়া, এই আনারটিইবা কীভাবে এলো? দরবেশ বললেন, আমি এ অঞ্চলের লোক। আল্লার অসীম করুণায় আমি বুজুর্গি পেয়েছি। আমি আজ চার শ বছর এখানে আছি এবং আল্লাহপাক আমাকে প্রত্যহ একটা করে আনার পাঠিয়ে দেন। এ কথা শুনে হজরত ঈসা (আ.) কাঁদতে কাঁদতে বললেন, হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে অপরাধী। আল্লাহ তখন বলেন, হে ঈসা, তুমি জেনে রাখো, তোমার পরবর্তী শেষ পয়গম্বর হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের মধ্যে কোটি কোটি লোক এই বুজুর্গ ব্যক্তির চেয়ে বেশি পুণ্য অর্জন করতে পারবে। কেননা, শেষ নবীর উম্মতদের মধ্যে যদি কেউ শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাত জেগে ইবাদত করেন, তাহলে আমি তাকে অত্যাধিক পুণ্য দান করব। হজরত ঈসা (আ.) আফসোস করে বলেন, আমি নবী না হয়ে যদি শেষ নবীর উম্মত হতাম, তাহলে জীবন ধন্য হতো।

সুতরাং; শেষ নবীর উম্মত হয়ে আসুন আমরাও আমাদের জীবনকে ধন্য করি। এই রাতে আমরা মহান আল্লাহ্র কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি, যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে তুমি আমাদের এখানে পাঠিয়েছÑ তার মর্যাদা রক্ষায় আমরা যেন সক্ষম হই। আমরা যেন শেষ নবীর প্রকৃত উম্মত হয়ে তোমার দরবারে হাজির হতে পারি। রহমতের এই রাতে তুমি আমাদের সেই তৌফিক দান করো। আমিন।

 

"