রাজউককে ধন্যবাদ

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

মহানগর ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারের কয়েকটি ইতিবাচক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর সরকার যে তার সিদ্ধান্তের প্রতি আন্তরিক হতে পেরেছে, বাস্তবতা সে কথাই বলছে। শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং পরিবেশকে মার্জিত পর্যায়ে আনার জন্য এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। যারা বা যেসব প্রতিষ্ঠান এ জটিল কর্মকান্ডে অংশ নিয়েছে, তাদের আন্তরিকতা ও সততাই প্রমাণ করে সরকার এ প্রশ্নে এবার কতটা আপসহীন। খাল ও নদীকে অবমুক্ত করার ক্ষেত্রে ধনী-গরিব অথবা সমাজে ক্ষমতাধর কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। খাল অথবা নদী দখলদারদের সব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। অবস্থা পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে, এ ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সরকারের এ অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দেশবাসী।

কেবল নদী বা খালই নয়। ভাঙা হচ্ছে বহুল আলোচিত রাজধানীর হাতিরঝিলের কারওয়ান বাজার অংশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিজিএমইএ ভবন। গত মঙ্গলবার ভবনে সিলগালা করে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। রাজউকের এ সাহসী পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ। এর আগে ভবন ভেঙে ফেলতে কয়েকবার সময় বেঁধে দেন উচ্চ আদালত। পোশাকশিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় প্রতিবারই বাড়ানো হয়েছে এ সময়সীমা। কিন্তু ক্ষমতার দাপটেই হোক অথবা অন্য কোনো কার্যকারণে হোক, বিজিএমইএ কিছুটা সুবিধা আদায়ে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে। বিজিএমইএ পরাজিত হলেও সত্যের জয় হয়েছে। জিতেছে বাংলাদেশ।

বিজিএমইএর অর্থ-সম্পদ এবং ক্ষমতা আমাদের অজানা নয়। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, সরকারের সততা এবং আন্তরিকতায় কোনো প্রকার ঘাটতি না থাকায় জয় নিশ্চিত হয়েছে। এ জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আরো একটি নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি লাভ করতে যাচ্ছে। এবারই প্রথম ডিনামাইট পাউডার ব্যবহার করে ভাঙা হবে ১৫ তলা এ ভবন। যদিও সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে বহুতল ভবন ভাঙার ক্ষেত্রে এ দেশে প্রথম ঘটতে যাওয়া এ ব্যবস্থাপনাও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।

আমরা মনে করি, সরকারের অনেক সাফল্যের মাঝে সরাসরি জনকল্যাণমূলক এ পদক্ষেপ সরকারের গ্রহণযোগ্যতাকে বহুলাংশে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে আমরা আশা করব, এ কাজে সরকার যেভাবে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে; সমাজের চতুর্মুখী অবক্ষয় তিরোহিত করার জন্য একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। কাজটি যত সহজে বলা যায়, কার্যত সম্পাদন করা ততটা সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন সৎ ও নিষ্ঠাবান প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। খাল ও নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রে যে উদাহরণ তৈরি হয়েছে; সেই উদাহরণকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশের জন্য আমাদের আর বেশি অপেক্ষায় থাকতে হবে না। এ আশাবাদ ব্যক্ত করে আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।

 

"