মানবতার মহাবন্ধনে বাঙালির বর্ষবরণ

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

ধর্মের বিভেদরেখা মলিন হয়ে বাঙালি জাতিসত্তার কাছে যেদিন পরাজিত হয় অপশক্তি, সেদিনটিই আমাদের নববর্ষÑ ‘বাঙালা নববর্ষ’। সাংস্কৃতিক জাগরণে মানবিক বোধের তাগিদে যেদিন নতুন করে জাগিয়ে তোলে আমাদের ঘুমিয়ে থাকা নান্দনিক অস্তিত্ব। এদিনে আমরা খুঁজে ফিরি আমাদের অবক্ষয়ের ক্ষতচিহ্ন। ব্যক্ত হয় জাতিসত্তার আলিঙ্গনে অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার দৃঢ়প্রত্যয়। আর সূচিশুভ্র সকালের সূচনা হয় শিকড় সন্ধানের সুন্দরতম প্রকাশের মহিমায়। সম্প্রীতির পদভারে প্রতিদ্বন্দ্বিত হয় মানবতার গান। আমরা জানি, আনন্দ ও নিরানন্দর পাশাপাশি অবস্থান চিরায়ত। এ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। অনেকটা রাত ও দিনের মতো। আর ঠিক সে কারণেই উৎসবের এত আয়োজনের মাঝে হারিয়ে যায়নি পুড়িয়ে মারা নুসরাতের নৃশংস হত্যাকান্ডের কথা, আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের কথা। আনন্দের মাঝেও থেকেছে জাগ্রত বাঙালির প্রতিবাদী সত্তা। ইতিহাস সাক্ষ্য, নীলকণ্ঠের মতো নিরানন্দকে আমরা যেভাবে অবগাহন করতে শিখেছি; শিখেছি আনন্দকেও আলিঙ্গন করতে। আমাদের জাগ্রত মানবতা ও চেতনার মিশ্রণে যে দ্রোহের জন্ম, সেই দ্রোহের হাত ধরেই এলো এবারের পহেলা বৈশাখ। এসেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান। গোটা দেশ ও জাতি যূথবদ্ধভাবে নববর্ষকে জানিয়েছে স্বাগত। মনের গহিনে বেজেছে মঙ্গলের বারতা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেই সুরে সুর মিলিয়ে বলেছেন, ‘দেশ সার্বিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন বছরেও এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। আগামী দিনে বিশ্বদরবারে বাঙালি জাতি তাদের মর্যাদাকে আরো সুসংহত করবে। সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।’

প্রধানমন্ত্রী যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তা অর্জন করা বাঙালি জাতির জন্য কঠিন কিছু নয়। এরই মধ্যে জাতি তা প্রমাণ করেছে। একসময়ের তলাবিহীন ঝুড়ি আর সে অবস্থায় নেই। আমরা আজ সার্বিকভাবে এতটাই এগিয়েছি যে, অনেক দেশের কাছে তা ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ অগ্রযাত্রা আরো অনেক বেশি হতে পারত, আমরা যদি অবক্ষয়ের হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করতে পারতাম। সমাজকে এ অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, সমাজের প্রত্যেক মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে সমাজের চালিকাশক্তি হিসেবে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, সর্বাগ্রে তাদের এগিয়ে আসার ওপরই নির্ভর করছে আমাদের সফলতা। নববর্ষের শুভ সূচনালগ্নে আমরা তাদের কাছ থেকে এটুকু আশা করতেই পারি। কেননা, দেশ ও জাতি তাদের কোনো কিছু দিতে কার্পণ্য করেনি। জাতির শ্রম ও মেধার ওপরে দাঁড়িয়েই তাদের এ উল্লম্ফন বা বিকাশ। আমরা মনে করি, সমাজের অবক্ষয়কে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা এগিয়ে আসবেন। বোধ জাগ্রত হবে। নববর্ষের শুরুতে জাতির এটুকুই প্রত্যাশা।

 

"