নারী নিরাপত্তায় আরো কঠোর হতে হবে

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

ঘরে-বাইরে সর্বত্র নিরাপত্তাহীন নারীরা। যেমন বেড়েছে তাদের ওপর যৌন নিপীড়নের মাত্রা, তেমনি বেড়েছে সহিংসতা। নিষ্ঠুরভাবে পুড়িয়ে মারাসহ এমন কোনো অপরাধ নেই, যা থেকে রেহাই পাচ্ছেন নারীরা। চার বছরের কোমলমতি শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মহিলা কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না অপরাধীরা। নৈতিক অধঃপতনের শেষ আর কী হতে পারে? দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রয়েছে। জনবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও এসব অপরাধ দমনে বারবার হুশিয়ারি দিচ্ছেন। এমনকি অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দিয়েছেন। তার পরও তা রোধ করা যাচ্ছে না। নিঃসন্দেহে জাতির জন্য এটি এক দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি।

সম্প্রতি ফেনীর সোনাগাজীতে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে মাদরাসাছাত্রী নুসরাতের মৃত্যুতে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠেছে। দেশের মানুষ এ অবমাননা ও সহিংসতার অবসান চায়, চায় হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এ সহিংসতার পরপরই নরসিংদীর রায়পুরায় দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে ঝলসে গেছে একই পরিবারের চার সদস্য। এরপরই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অর্থনীতি বিভাগের এক ছাত্রীকে চলন্ত বাসে যৌন হয়রানি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগরীতে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে। এতে বাসের চালক ও তার সহকারীকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার পরই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তবে ঘটনাটি জানার পরই প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর আগেও চলন্ত বাসে যৌন হয়রানি ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি গণধর্ষণের পর নারীকে হত্যাও করা হয়েছে। অন্যদিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বখাটেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সাটিয়াবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এ অসুস্থ ও বিপজ্জনক প্রবণতা সংক্রামক ব্যাধির মতো এখন শিক্ষিত-উচ্চশিক্ষিত অনেক পুরুষের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে বলা যায়, নারীর নিরাপত্তার ব্যাপারে সমাজে কারো ওপরই আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। কিন্তু প্রশ্ন হলোÑ এর কী কোনো প্রতিকার নেই?

দেশের উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমান গুরুত্ব নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। বিকাশমান পোশাকশিল্পে এ দেশের নারীদের অবদান শুধু স্থানীয়ভাবেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। কিন্তু সেই নারীশ্রমিকরাও দুর্বৃত্তদের নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। অথচ দেশের একশ্রেণির মানুষ নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে হেয়প্রতিপন্ন করছে। যে কারণে সমাজে নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। মনে রাখতে হবে, যত দিন পর্যন্ত নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না ঘটবে; তত দিন পর্যন্ত নারীরা এ নিগ্রহের শিকার হতেই থাকবেন। ফলে যত দ্রুত সম্ভব এই হীন অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। এজন্য সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যে অপরাধীকে শনাক্ত ও বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে যেন অপরাধীরা আবার বেরিয়ে আসতে না পারে।

"