সুস্বাগতম ১৪২৬

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

চলে গেল আরো একটি বছর। বিদায় ১৪২৫। স্বাগত তোমাকে হে বৈশাখ। স্বাগত ১৪২৬। মাঝেমধ্যে মনে হয়, প্রাণিকুলের মাঝে আমরাই ব্যতিক্রম। অন্য কোনো প্রাণী অথবা জীবকুলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ওদের চেহারায় আছে অদ্ভুত মিল, আমাদের নেই। বিশ্বের ৬০০ কোটি মানুষকে পাশাপাশি দাঁড় করালে দেখা যাবে, কারো সঙ্গে কারো কোনো মিল নেই। ওদের ঐক্য আছে। আমাদের নেই। থাকলেও সাময়িক। স্বার্থের উর্ধে ওরা। আমরা তা নই। সম্ভবত সে কারণেই বিশ্বজুড়ে এত দ্বন্দ্ব, এত সংঘাত। আর এ দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের মধ্য দিয়েই আমরা পার করেছি একটি বছর। তবে কি ফেলে আসা বছরের ডিপোজিটে কোনো ভালোবাসা গচ্ছিত ছিল না! আমরা মনে করি, দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের পাশাপাশি ছিল ভালোবাসার অসংখ্য নিদর্শন। সম্ভবত যাকে আমরা অবহেলার চাদর দিয়ে ঢেকে রাখতে চাইছি। তাই নতুনকে আবাহন করতে গিয়ে কেবলই আনন্দ আর উৎসবের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলাটাই হয়ে ওঠেছে মুখ্য।

আমরা আনন্দ আর উৎসবের বিরুদ্ধে নই। হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য এরও প্রয়োজন রয়েছে। তবে গেল বছরের প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ হওয়াটাও কম জরুরি নয়। নববর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি আমাদের নৈতিকতার অধঃপতনের হিসাবটাও স্মরণে রাখা দরকার। নেতিবাচক ও ইতিবাচক কর্মকান্ডের হিসাবটাও স্মরণে রেখে বর্ষবরণের প্রতিপাদ্য নির্ণিত হওয়া দরকার। আমরা খুব ভালো করেই জানি, অতীতের ওপর ভর করেই গড়ে উঠে ভবিষ্যৎ। আর সে কারণেই ভবিষ্যতে ভালো কিছুর প্রত্যাশা থাকলে কেবল আনন্দ-উৎসবের মাঝে ডুবে থাকলে তা হবে আত্মঘাতী। গত বছরের খতিয়ান খুলে চুলচেরা বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই শপথনামা পাঠকেই দিতে হবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব। আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রার কোনো একপর্যায়ে এ শপথনামা পাঠ করতে পারি। শুধু ঢাকা মহানগরকেন্দ্রিক হলেই চলবে না। একে ছড়িয়ে দিতে হবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

আমাদের কৃষ্টি, আচার ও নিজস্ব সংস্কৃতি আজ বিদেশ সংস্কৃতির হুমকির মুখে। একে রক্ষা করা দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আজকের এই দিনে সব আয়োজনের মধ্যে একটি কথা বারবার উচ্চারিত হতে পারে, ‘আমাদের কৃষ্টি, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্যকে আমরাই রক্ষা করব। শুধু একটি দিনের মাঝেই তা সীমাবদ্ধ থাকবে না। নববর্ষের এই দিনের মতো বছরের ৩৬৫ দিনকেই আমরা এইদিনে পরিণত করতে চাই। আমাদের মননে, চলনে আর আমাদের বলনে তার প্রতিফলন ঘটাতে চাই।’ আসুন, আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশজ সংস্কৃতির ঝান্ডাকে উজ্জীবিত করার কাজে এগিয়ে যাই আর এটাই হোক নববর্ষের প্রথম শপথ।

 

"