আমদানি নিয়ন্ত্রণকে সুস্বাগতম

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

পত্রিকার পাতা উল্টালেই নিজের অজান্তে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। ছোট ছোট অক্ষরে ছাপা বর্ণগুলোকে মনে হয়, এক একটি শোকবার্তা। স্বজন হারানোর ব্যথা আর অনৈতিক কর্মকান্ডের পশরা সাজিয়ে যেন বলা হচ্ছে, ‘এটাই সমাজচিত্র’। আয়নার সামনে এসে নিজেকে পরখ করি, সত্যিই কি তাই! প্রতিবিম্ব বলে উঠে, না। ওটা প্রকৃত চিত্র নয়। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৬ হাজার দুর্বৃত্তের দায় আমরা নিতে পারি না। এ দায় রাষ্ট্র ও সমাজ যারা পরিচালনা করছেন এবং সমাজ সংস্কারের সঙ্গে যারা জড়িতÑ তাদের। প্রশ্ন উঠতেই পারে, তা হলে কি সাধারণের কোনো দায় নেই? এ প্রশ্নের জবাবে বলতে হয়, সাধারণ মানুষ হচ্ছে ভাসমান কচুরিপানার মতো। স্রোত যেদিকে বহমান থাকে ওদের চলাটাও সেই পথে প্রবাহিত হয়। তবে দিক পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের ভূমিকাই প্রণিধানযোগ্য। তাদের ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল এদের দায়। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসটাও তাই। এ দায় নিতে সাধারণ মানুষ কখনো কার্পণ্য করেনি। আর করেনি বলেই তারা সব সময় ইতিবাচক ফলাফল এনেছে।

সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি সংবাদ আমাদের মননে একটি আনন্দ অনুভূতির জোগান দিয়েছে। পত্রিকা বলছে, দেশীয় চা বাগানের উৎপাদিত পণ্যের বিক্রি এক বছরে বেড়েছে ৪৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ চাহিদা এবং জোগানের মাঝে একটি সমন্বয় ঘটানো সম্ভব হয়েছে বলেই এ ফল। পত্রিকার ভাষ্যমতে, উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন না হলেও তিন বছরের ব্যবধানে দেশের চা বাগান মালিকদের আয় বেড়েছে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। চা আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের ফলে দেশীয় চায়ের দাম প্রতি বছরই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে একটি কথা না বললেই নয় যে, সরকারের এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত চাশিল্পকে একটি ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিয়েছে। আমরা মনে করি, চাশিল্পের মতো আরো কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের এ রকম সিদ্ধান্ত আসাটা জরুরি। বিশেষ করে পাট ও পাটজাত শিল্পের বাজার তৈরিতে পলিথিনের কাঁচামালের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা গেলে পলিথিন ব্যাগের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে পারে পাটের ব্যাগ। আর এই একটি সিদ্ধান্ত বাঁচিয়ে দিতে পারে দেশের পাট ও পাটজাত শিল্পকে। ফিরে আসতে পারে সোনালি আঁশের সোনালি দিন। সরকার যদিও পলিব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু সে ঘোষণা কোনো কাজে আসেনি। তাই শুল্কারোপই এর মোক্ষম অস্ত্র হতে পারে। আমরা মনে করি, দেশীয় পণ্য বিশেষ করে বিশেষায়িত পণ্যের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে একদিকে যেমন পাট ও পাটজাত শিল্পের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে, পাশাপাশি পলিব্যাগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হাত থেকে দেশ ও জাতি মুক্তি পাবে। শুধু এই একটি সিদ্ধান্ত ঢাকা মহানগরকে দূষণমুক্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।

একই সঙ্গে আমরা আরো মনে করি, চাশিল্পের মালিকরা যখন সরকারি একটি সিদ্ধান্তের কারণে লাভের অঙ্ক বাড়াতে পেরেছেন, তখন সেই লাভের কিছু অংশে শ্রমিকদেরও দাবি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। এ সময় মালিকরা যদি শ্রমিকদের কল্যাণে কিছু একটা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাদের মানবেতর অবস্থার উন্নতিকল্পে কিছু করেন; তা হলে আমরা শুধু লাভের ক্ষেত্রেই নয়, উৎপাদনেও এগিয়ে যেতে পারি। যা দেশ ও জাতি তাদের কাছে দাবি করতেই পারে।

 

"