অধ্যক্ষের অপকর্ম ক্ষমার অযোগ্য

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, নানা অপকর্মে ‘দক্ষ’ এক অধ্যক্ষ। অপকর্মের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ থেকে শুরু করে নাশকতার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি। মাল্টিপারপাস কোম্পানি খুলে অর্থ আত্মসাতের মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সমাজে তিনি একজন কেউকেটা। ক্ষমতাও অনেক। এই ক্ষমতাধর ব্যক্তি ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা। একসময় যিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতাও ছিলেন। পরে এই অধ্যক্ষ অর্থ আত্মসাতের দায়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

গত শনিবার অধ্যক্ষের অনুসারীরা আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে। রাফির ঘটনার পর আবার আলোচনায় এই অধ্যক্ষ। শুধু রাফিই নয়, চলতি বছর একই মাদরাসার আরেক ছাত্রী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। ছাত্রীটি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে অধ্যক্ষ বেশ কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন।

অগ্নিদগ্ধ মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে লাইফ সাপোর্টে রেখেই গত মঙ্গলবার অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা কিছুটা ভালোর দিকে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। সর্বসাধারণের অভিমত, রাফির জীবন রক্ষা হলে অধ্যক্ষ এবং তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অ্যাটেমট টু মার্ডার এবং অ্যাসিড-সন্ত্রাসের মামলা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত বিচারে এই মামলা নির্ভর করছে পুলিশি তদন্ত এবং চার্জশিটের ওপর। কিন্তু এরই মধ্যে মামলার এজহার ও তদন্ত নিয়ে পুলিশি কর্মকা-ে সন্দেহের ডালপালা বিস্তার লাভ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, দায়ের হওয়া মামলার এজহারে আসামির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। সর্বশেষ এজাহারে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এস এম সিজাজ-উদ-দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। বোরকা পরিহিত চার নারীকে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত হিসেবে। তবে পৈশাচিক ও বর্বর এ ঘটনার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে ছয়জনই রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শুধু শিক্ষকই নন। শিক্ষকদের প্রধান। কোনো সাধারণ স্কুলও নয়। মাদরাসা। যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুসলমান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির সংযোগ রয়েছে। প্রচলিত আইনে এ ধরনের গর্হিত অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে ইসলামে এ অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। না ইহকাল, না পরকালে। শাস্তিটাও প্রচলিত বিধানের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। আমরা মনে করি, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি তদন্তের ওপর নির্ভর না করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেননা, এ ঘটনার শুরুতেই পুলিশি কর্মকা-ের ওপর সাধারণ মানুষ আর আস্থা রাখতে পারছেন না। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, এ ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার সম্পন্ন হবে। যেখানে সত্য পরাজিত হবে না এবং এরা কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে।

 

"