স্বাস্থ্যসেবায় জনবল নিয়োগ জরুরি

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

জনবল সংকটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। যার খেসারত দিচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। যাদের পক্ষে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বারবার হুশিয়ারি ও নির্দেশনার পর সার্বিক অবস্থার সামান্য উন্নতি ঘটেছে এ কথা সত্য, তবে তার ফল ভোগ করছে খুব কম জনই। কারণ হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট আমলে নিলেও সহায়ক জনশক্তি নিয়োগের ব্যাপারে এখনো উদাসীন স্বাস্থ্য বিভাগ। দুর্নীতি বন্ধ, রেফারেল সিস্টেম কার্যকর এবং শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের মাধ্যমেই কেবল রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করা যাবে, অন্যথায় নয়।

এছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলোতে অপ্রতুল দক্ষ চিকিৎসক, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের লাগামহীন দুর্নীতি, উচ্চমূল্যে নিম্নমানের অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র ক্রয়সহ সর্বোপরি তীব্র জনবল সংকট তো লেগেই আছে। চিকিৎসক ও নার্স স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় হরহামেশা নিয়োগ পেলেও সহায়ক জনশক্তিদের নিয়োগ সেভাবে হয় না। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের গ্রুপিং, চিকিৎসকদের ক্যাডার বৈষম্যসহ নানা কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো সম্ভব হচ্ছে না বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে যাই হোক, সাধারণ মানুষের স্বার্থে এ দুরাবস্থার অবসান হওয়া উচিত। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের অনেক বেসরকারি হাসপাতালে লোকবল সংকট তেমন প্রবল নয়, পরিবেশও ভালো। কিন্তু সেসব হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে সীমাহীন অব্যবস্থাপনা। অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জায়গা ও শয্যা সংকট। জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে এ সমস্যা আরো প্রকট। রোগীদের ওয়ার্ডের বারান্দায় রাখা হয়। কোনো কোনো হাসপাতালে নারী ওয়ার্ডে পর্যাপ্তসংখ্যক শয্যা না থাকায় পুরুষ ওয়ার্ডে রেখে নারী রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। আবার শয্যার অনুপাতে জনবল না থাকায় রোগীর চাপ সামাল দিতে পারেন না চিকিৎসকরা। বহির্বিভাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোগীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসককে সময়মতো পাওয়া যায় না। কোনো কোনো জেলা হাসপাতালের কনসালট্যান্টরা ঢাকায় বাস করেন; কেউ বা মাসে দুই-এক দিন যান। উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর অবস্থা আরো করুণ। চিকিৎসক সপ্তাহে দুই-এক দিন যান। অন্য দিনগুলোতে বন্ধ থাকে। খোলা দিনে রোগীদের অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেক উপকেন্দ্রে ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়কের পদ শূন্য। যে কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষ।

তবে ব্যতিক্রম যে নেই তা অবশ্য বলা যাবে না। অনেক হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়, ব্যবস্থাপনাও ভালো। কিন্তু সেসব শুধুই ব্যতিক্রম। তাই মনে রাখতে হবে, মানুষের মৌলিক অধিকারকে কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াটাই উত্তম বলে আমরা মনে করি। স্বাস্থ্যব্যবস্থার যথাযথ তদারকির জন্য শক্তিশালী ও বাস্তবমুখী কর্মপদ্ধতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আমরা চাই এ দেশের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হোক।

"