মহান স্বাধীনতা দিবস

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। সাড়ে ৯ মাসের মরণপণ যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা বাঙালিকে শত শত বছরের গোলামির নাগপাশ থেকে মুক্ত করেছে। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের অব্যবহিত পরই বাঙালিরা বুঝে যায় পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোতে তাদের মুক্তি অসম্ভব। রাষ্ট্রভাষার অধিকার লাভে বঞ্চিত বাঙালিকে প্রাণ দিতে হয় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে। এরপর নানা শোষণ-বঞ্চনা বাঙালির ক্ষোভকে ক্রমেই জমাট করে। ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানÑ এসবের ধারাবাহিকতায় আসে ১৯৭০ সালের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ বিজয় এবং সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকচক্র জনগণের এ রায় মেনে না নিয়ে চালাতে থাকে নানা ষড়যন্ত্র। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হয় স্বাধীনতার আন্দোলন। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে বজ্রকণ্ঠে যে ঘোষণা দেন, তাতেই মুক্তিপাগল বাঙালি যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে। ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া ও ভুট্টো ঢাকা ছাড়েন। তবে ইয়াহিয়া তার সেনাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে যান। ওই কালরাতেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে এবং নেমে পড়ে গণহত্যায়। কিন্তু তার আগেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর ওই ঘোষণা যখন প্রচারিত হয়, তখন মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে, ফলে ক্যালেন্ডারের হিসাবে তখন ২৬ মার্চ। এ কারণেই আমাদের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ।

‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে’ বঙ্গবন্ধুর সেই আহ্বান জাতিকে মুক্তির জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত মিত্রবাহিনীর কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম অধ্যায় হলো, স্বাধীনতা লাভের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। জেলখানায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধগুলোর মূলে শুরু হয় কুঠারাঘাত। তবে দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে দেশ। চেষ্টা চলছে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে নেওয়ার। বর্তমানে নতুন সম্ভাবনার দিকে যাত্রা করেছে দেশ। ইতিহাসের এই শুভক্ষণে দৃঢ়কণ্ঠে আমাদের স্বাধীনতার মর্মবাণী পুনরুচ্চারণ করতে হবে। স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতা থেকে মুক্তি নয়। স্বাধীনতা হলো স্বাধীন রাষ্ট্রে সার্বভৌম জাতি হিসেবে মাথা তুলে থাকার সব আয়োজন। যেদিন জাতি ধর্ম সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের সব জনগণ প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক পরিবেশে নিজেদের নাগরিক অধিকার নিয়ে মাথা উঁচু করে বাস করতে পারবে, সেদিনই স্বাধীনতাকে পরিপূর্ণ সফল বলে মনে করা যাবে। স্বাধীনতার ৪৮তম বর্ষপূর্তিতে এ হোক আমাদের অঙ্গীকার।

 

"