জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এখন ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ক্রেতা পক্ষকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেড়েছে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, মাছ, মাংস, শাক-সবজি ও ফলের দাম। বাড়লেও কমার কোনো লক্ষণ নেই। এতে উচ্চবিত্তের শরীরে কোনো আঁচ না লাগলেও নাভিশ্বাস উঠছে নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তের সংসারে। বাজারে গিয়ে চাহিদা ও সামর্থ্যরে সম্পর্কটা হয়ে উঠছে সাংঘর্ষিক। দিশাহারা হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ থাকার পরও লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হয়নি। অসাধু কিছু ব্যবসায়ীর কাছে বন্দিবস্থায় বসবাস করছে আমাদের ক্রয়ক্ষমতা। স্বেচ্ছায় নয়, এ বসবাস অনেকটা বাধ্যতামূলক।

ক্যাবের তথ্য মতে, ২০১৮ সালেই কেবল ঢাকায় জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে ৬ শতাংশ। পণ্য ও সেবায় বেড়েছে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। এসব বাড়তি খরচের শিকার হচ্ছে দেশের ১০ কোটি মানুষ। তবে গত তিন সপ্তাহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তা এ তথ্যকেও অতিক্রম করেছে বলেই মনে করেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা বলেছেন অন্য কথা। তাদের মতে, উৎপাদন কমে যাওয়ায় ডিম, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। আমরা মনে করি, ব্যবসায়ীদের বক্তব্য বাস্তবতা বিবর্জিত। উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই। ঘাটতি থাকলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতেন না। মূল সমস্যা উৎপাদনে নয়। সমস্যা মধ্যস্বত্বভোগী এবং সিন্ডিকেট সদস্যদের নিয়ে।

এ ছাড়াও রয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থাসমূহ। যাদের কাজ বাজার নিয়ন্ত্রণ করা বা নিয়ন্ত্রণে রাখা। অনেকের মতে, এরাও কমবেশি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত। আর সে কারণেই সরকারের পক্ষে বাজারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কেজিপ্রতি গরুর মাংস বেড়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির কেজি অনেকদিন ১২০ টাকায় স্থির থাকলেও বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। একই অবস্থা কক ও দেশীয় মুরগির ক্ষেত্রেও। পাকিস্তানি কক মুরগির দাম ৬০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। আর দেশি মুরগির দাম মানভেদে পিসপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। একইভাবে বেড়েছে ডিম ও সবজির দাম। নতুন আসা প্রায় সব সবজিই এখন সেঞ্চুরি পালন করছে। ১০০ টাকার নিচে এসব সবজিকে ছোঁয়া যাচ্ছে না। এদিকে ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, মুরগি ও ডিমের ক্ষেত্রে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। এ ক্ষেত্রে বেশি মুনাফা লাভের আশায় যারা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন, সেসব ব্যবসায়ী এ কাজ করেছেন। যার প্রভাব

পড়েছে পুরো বাজারের ওপর।

অন্য প্রায় সব পণ্যের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দেশের প্রায় প্রত্যেক মানুষ বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষরা এ অনৈতিক মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে চায়। আমরাও তাদের এ প্রত্যাশার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, সরকার নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং সমস্যার ইতিবাচক সমাধানে এগিয়ে আসবে।

 

"