যৌথ প্রতিরোধ চাই বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বিভিন্ন দেশের বাতাসের মান নিয়ে গবেষণা করে আসছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তাদের বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০১৮ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের তিন হাজারের বেশি শহরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করেছে। যেখানে উন্নত দেশের শহর যেমন আছে, তেমনি অনুন্নত দেশেরও আছে।

মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদানগুলোর অন্যতম বাতাসে বিদ্যমান পিএম ২ দশমিক ৫ (পার্টিকুলেট ম্যাটার) বা অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মান অনুযায়ী প্রতি ঘনমিটার বাতাসে এর সহনীয় মাত্রা ১০ মাইক্রোগ্রাম। যদিও ঢাকার বাতাসে পিএম ২ দশমিক ৫-এর মাত্রা এ মানের অনেক ওপরে, প্রতি ঘনমিটারে ৯৭ মাইক্রোগ্রামের বেশি। বিভিন্ন দেশের রাজধানীর বায়ুমান বিবেচনায় এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাতাসে ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের সূক্ষ্ম কণাকে পিএম ২ দশমিক ৫ বলা হয়। ডব্লিউএইচওর মান অনুযায়ী, বাতাসে পিএম ২ দশমিক ৫-এর গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ১০ মাইক্রোগ্রাম। আর যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ১২ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণাকে নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়। তবে ৩৫ দশমিক ৪ মাইক্রোগ্রামকে চলনসই বিবেচনা করা হয়। এর বেশি হলে অর্থাৎ প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ২ দশমিক ৫-এর পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫০ দশমিক ৪ মাইক্রোগ্রাম হলে ওই বাতাসকে ধরা হয় অস্বাস্থ্যকর হিসেবে। এ হিসেবে ঢাকার বাতাস মানবস্বাস্থ্যের জন্য অস্বাস্থ্যকর।

বায়ুদূষণের জন্য দায়ী অনেক কিছু। যানবাহনের ধোঁয়া ও ইটভাটা মূলত রাজধানীর বায়ুদূষণের প্রধান কারণ বলে গবেষণায় জানা যায়। তবে রাজধানীর বা আশপাশের ইটভাটাগুলো দায়ী বেশি। গবেষণায় পাওয়া গেছে, ঢাকার বায়ুদূষণের শতকরা ৬২ ভাগ দায়ী এ কারণ দুটো। ইটভাটাগুলো বায়ুদূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটা ৩৪ ভাগ এবং মোটরযান ১৮ ভাগ দায়ী বলে এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে। বাংলাদেশে পরিবেশদূষণ অনেক মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, শুধু ঢাকাতেই এক বছরে ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সারা দেশের শহরাঞ্চলে মারা গেছে ৮০ হাজার। পরিবেশদূষণের সমন্বিত নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবনের ওপর। বাতাসে ক্ষতিকর এসব বস্তুকণা মিশছে মূলত যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শিল্পের জ্বালানি

এবং কাঠ ও কয়লা পোড়ানোর ফলে। তবে ঢাকার বাতাসে অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণার উৎস হিসেবে যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও ইটভাটাকে প্রধানত

দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকার বাতাস ২৪ ঘণ্টাই বিপজ্জনক এবং অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু আগে থেকেই এ ধারা বজায় থাকলেও এর ভয়াবহতা নিয়ে বা জনসচেতনতা নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা হচ্ছে কম। গণমাধ্যমকে বেশি পরিমাণে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের দুর্দিনে গণমাধ্যমের ইতিবাচক অনেক ভূমিকা থাকে। এ বিষয়েও উচ্চকিত হোক দেশের গণমাধ্যমÑ এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ভয়াবহতার অবস্থা তুলে ধরে সচেতনতার কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে করণীয় কী কী, তা তুলে ধরতে হবে। জনসচেতনতা সৃষ্টিই পারে বিভিন্ন রকমের দূষণের ভয়াবহতা কমাতে। পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। সুতরাং বায়ুদূষণের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষার জন্য জনগণ ও সরকারকে সততার সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। তবে মুখ্য দায়িত্ব পালন করতে কবে সরকারকেই।

 

"