আজ তোমার জন্মদিন

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

আজ ১৭ মার্চ। একটি বিশেষ দিন। বিশেষ করে পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে দিনটি বিশেষ বিশেষণে বিশেষায়িত। কেননা, এদিনে পৃথিবীতে তোমার জন্ম হয়েছিল। তুমি এসেছিলে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। বাইগার নদীর তীরে, ছোট্ট একটি ঘরে। মা সায়েরা খাতুনের কোল আলো করে সুতীব্র চিৎকারে বলেছিলে, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’। সেদিন সেই সুতীব্র চিৎকারের মাঝে যে একটি দেশের স্বাধীনতার পবিত্র বাণী লিপিবদ্ধ ছিল, তা আমরা বুঝতে পারিনি। বুঝতে অনেক দিন লেগেছে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ৭ মার্চ ১৯৭০। মাঝখানে ৫০ বছর। ৭ মার্চ আমরা পেলাম বাইগার নদীর তীর থেকে ভেসে আসা সেই সুতীব্র চিৎকারের মর্মবাণী।

শুভ জন্মদিন। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অভাব-অনটনের বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে যিনি দাঁড়াবেন, লড়াই করবেন, নেতৃত্ব দেবেন এবং নেতৃত্বের ফসল ঘরে তুলবেন, তিনিই তো নেতা। হে বন্ধু; তোমাকে সালাম। তুমিই সেই সার্থক পুরুষ। যাকে ভালোবেসে আজ ১৬ কোটি মানুষ ‘বঙ্গবন্ধু বলে ডাকে। তোমার কৈশোরেই আমরা তোমার নেতৃত্ব এবং সাহসের পরিচয় পেয়েছি। তুমি তখন গোপালগঞ্জ মিশন হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সময়টা ১৯৩৯। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এবং একই কেবিনেটের অন্যতম মন্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী এসেছিলেন স্কুল পরিদর্শনে। সাম্প্রদায়িক প্রতিকূলতাকে পদদলিত করে কিশোর মুজিব (আজকের বঙ্গবন্ধু) মন্ত্রীদের যথাযোগ্য সংবর্ধনা জ্ঞাপনের পর ছাত্রদের পক্ষ থেকে স্কুল ছাত্রাবাসের নষ্ট ছাদ মেরামতের দাবি উত্থাপন করে অবিলম্বে তা কার্যকর করার ব্যবস্থা করিয়ে নেন। এখানেই নেতৃত্বের উত্থান। সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল ফেলা হয়। ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে গিয়ে তাকে সাত দিন কারাগারেও কাটাতে হয়েছে। সম্ভবত কিশোর জীবনের কারাবাস পরে তাকে আরো অনেক বেশি সাহসী করেছে। কোনো স্বৈরশাসক তাকে আর দাবায়ে রাখতে পারেনি। দেশের মানুষের বুকে তিনি সেই দাবায়ে রাখতে না পারার বীজ বপনের ক্ষেত্রে একজন সার্থক কৃষকের ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়েছিলেন। সততার সঙ্গে নিজের বিশ্বাস এবং অনুশীলন একই সমান্তরাল রেখায় দাঁড় করাতে পারার কারণে

আজ তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’।

একবার বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট ‘বঙ্গবন্ধুকে’ জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তোমার কোয়ালিফিকেশন কী? উত্তরে ‘বঙ্গবন্ধু’ বলেছিলেন, ‘আমি আমার মানুষকে ভালোবাসি’। সাংবাদিক আবার জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার ডিজকোয়ালিফিকেশন কী? ‘বঙ্গবন্ধু’ মুহূর্ত সময় নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি আমার জনগণকে ভালোবাসি’। এ জন্যই তিনি খোকা থেকে মুজিব, মুজিব থেকে ‘বঙ্গবন্ধুু, ‘বঙ্গবন্ধু’ থেকে জাতির জনক। হে জনক, ‘তোমাকে সালাম’।

 

"