গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় হোক

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আয়োজিত গণশুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে ১০৩ শতাংশ হারে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। প্রস্তাবে বলা হয়, এতে আবাসিকে এক চুলার বর্তমান দর ৭৫০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫০ টাকা, দুই চুলার ৮০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৪০ টাকা, সিএনজিতে প্রতি ঘনমিটার ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৫৬ টাকায় উন্নীত করা হোক। পাশাপাশি ভোক্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্যাসের এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হবে। নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়লে ব্যবসায়ীরা গভীর সংকটে পড়বেন। প্রতিযোগিতার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এলএনজি ব্যয়বহুল হলেও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, গ্রাহকপর্যায়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রেখে সম্পূরক শুল্ক, আমদানি শুল্ক ও শুল্কে শতভাগ অব্যাহতি দিয়েছে সরকার। অগ্রিম ব্যবসা করও ৫ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। গ্যাসের মূল্য যাতে না বাড়ে, সেজন্যই এ ছাড় দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাসে ১৫ হাজার কোটি টাকার করছাড় দেওয়ার পরও ১০২ শতাংশ মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পেট্রোবাংলার অধীন গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো। এখানে উল্লেখ্য যে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পর গ্যাসের মূল্য যেন না বাড়ে, সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে চলতি অর্থবছরের শুরুতেই গ্যাসের ওপর প্রযোজ্য সব ধরনের শুল্ক কর কমানোর উদ্যোগ নেয় এনবিআর। দেশের সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ ঠেকাতেই সরকারের এ উদ্যোগ। সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে কেউই কার্পণ্য করেনি। সে কারণেই প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে আবারও মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব কেন?

পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এলএনজি আমদানি ব্যয়ের তুলনায় এনবিআরের করছাড় অপ্রতুল। ফলে গ্যাসের মূল্য বাড়িয়ে সমন্বয় করার বিকল্প নেই। ১ হাজার এমএমসিএফডি গ্যাস আমদানিতে এক অর্থবছরে আমাদের ঘাটতির পরিমাণ ২৫ হাজার কোটি টাকা। সে ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য গ্যাসে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

গণশুনানিতে উভয়পক্ষ তাদের মতামত দিয়েছে। তবে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা কতটা গ্রহণযোগ্য; সম্ভবত তা বিবেচনায় নিয়েই বিইআরসি মূল্যায়ন করবে। এ প্রসঙ্গে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেছেন, বিতরণ কোম্পানি যা চাইবে তাকে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের বাধ্যবাধকতা নেই। দুপক্ষের কথা স্মরণে রেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি আরো বলেছেন, এবারে গ্যাসের মূল্য খুব বেশি বাড়বে না। যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই বাড়ানো হবে। এতে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা গ্রাহকদের আকাক্সক্ষার কথা মাথায় রেখেই এ কাজ করব। আমরা মনে করি, মূল্যবৃদ্ধির প্রশ্নে বিইআরসি যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা যেন সাধারণ মানুষের সহনীয় পর্যায়ে থাকে। মানুষ যেন এ ভার বহন করতে পারে।

 

"