বিশ্লেষণ

প্রতিকূলতাকে জয় করার কান্ডারি

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

মোতাহার হোসেন

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জন্ম থেকে এখন অবধি নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছেন ভবিষ্যতের পথে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক, রাষ্ট্রিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে। বিশ্বে এমন প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে এমনকি জীবনকে বাজি রেখে দেশ-জাতির কল্যাণে নিবেদিত নেতানেত্রীর সংখ্যা কমই আছেন। এত বাধাবিপত্তিকে পায়ে ঠেলে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি, জীবনমানের উন্নয়ন এবং সুন্দর জীবন উপহার দিতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কমপক্ষে ২৮ বার তাকে হত্যার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চলেছে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং বাংলার মানুষের দোয়ায় তিনি বেঁচে আছেন।

অবশ্য শত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধেও আজকের অবস্থানে দেশকে নিয়ে যাওয়া এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার জাদুকরী কাহিনি তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করে থাকেন। অবিশ্বাস্য তার এ পথচলা ও রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে সম্প্রতি সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় বলেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জনগণের সেবা করার সংকল্প ব্যক্ত করে এ দেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে যাওয়ার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চলার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না, তবু আমরা এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ রবার্ট ফ্রস্টের বিখ্যাত কবিতা ‘স্টপিং বাই উডস অন এ স্নোয়ি ইভিনিং’-এর দুটি পঙ্?ক্তি ‘উডস আর লাভলি, ডার্ক অ্যান্ড ডিপ/বাট আই হ্যাভ প্রমিসেজ টু কিপ/অ্যান্ড মাইলস টু গো বিফোর আই সিøপ/’ উল্লেখ করে শিল্প সাহিত্য প্রেমী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের মতো করে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই এবং আগামীর বাংলাদেশ হবে সুন্দর, উন্নত ও সমৃদ্ধ।’

বাংলাদেশকে যে উন্নয়নের মহাসড়কে তিনি তুলে দিতে সক্ষম হয়েছেন, এ থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না বলেও আশাবাদ তার। তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করব, ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করব। ইনশা আল্লাহ তখন বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করেই আমরা গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তার সরকার ‘আর্মড ফোর্সেস গোল ২০৩০’ প্রবর্তন করে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সংবলিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।’

দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য তিনি বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সেই জন্যই আজ সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন, একের পর এক টেলিভিশন চ্যানেল হয়েছে। দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য তার সরকার সারা দেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি এলাকায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান যাতে হয়, রফতানি বৃদ্ধি পায়, বিদেশে দেশের যাতে বাজার সৃষ্টি হয়, সে ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তিনি অতীত প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিচয় ছিল পাঁচ-পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। সেই পরিচয়কে ঘুচিয়ে ফেলে বাংলাদেশকে একটা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে তার সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানে সহযোগিতার জন্য কক্সবাজার তথা দেশের জনগণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘অনেক উন্নত দেশও যা পারেনি, আমরা তা পেরেছি। আমরা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা নাগরিকদের মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদান করেছি।’ তিনি বলেন, এজন্য তার সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো ঝগড়াবিবাদে না জড়িয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারও তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা সব অপশক্তি, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এবং সব বৈরিতাকে পেছনে পেলে দেশ-জাতির বৃহত্তর কল্যাণে বিশ্বে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে নিতে সক্ষম হই।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

motaherbd123@gmail.com

 

"