ব্যাংকে অভিজ্ঞ পরিচালক চাই

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বর্তমান সরকারের দুর্বলতার একটি জায়গা হলো ব্যাংক ও আর্থিক খাত। কথাটি তুমি, আমি বা আমাদের মাঝ থেকে উঠে আসা কোনো কল্পকাহিনির অংশবিশেষ নয়। বাক্যটি দেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা উচ্চারিত শব্দাবলি। তিনি বলেছেন, এ মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে দুর্বলতার জায়গাটি হলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। একে শক্তিশালী করতে হবে। লিজ ফিন্যান্সিংয়ের নামে অনেক প্রতিষ্ঠান হয়েছে। এখন এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের দু-একজনকে ছাড়া কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এটিই বাস্তবতা। এ বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। এত দিন যা হয়েছে তার বিবরণ না দিয়ে বলছি, এ মুহূর্ত থেকে অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যাংকে কোনোভাবেই পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে না। বর্তমান সরকারের দুর্বলতার জায়গা ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অভিজ্ঞতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আর সে কারণেই এ সিদ্ধান্ত।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোয় কতটা অনিয়ম হয়েছে তা জানার জন্য দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে (ব্যাংক ও এনবিএফআই) বিশেষ অডিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই কাজও শুরু হয়েছে। তিনি বলেছেন, কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে ছোট করার উদ্দেশ্য সরকারের নেই। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকারীকে অবশ্যই ভেতরের সঠিক অবস্থা জানা প্রয়োজন। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এ বিশেষ অডিটের ব্যবস্থা। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, এ মন্ত্রণালয় অনেক বড় জায়গা। এখানেও বিভিন্নভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষ সঠিক সেবাটি পায় না। দুদককে জানানো হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা যেকোনো ব্যাংকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্সের নীতি গ্রহণ করবে। তিনি আরো বলেছেন, ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সরকার এর পরিবর্তন চায়। খেলাপি ঋণ আর বাড়ানো যাবে না। আমরা সৎ মানুষের সঙ্গে আছি এবং থাকব।

আমরা মনে করি, অর্থমন্ত্রী যে শব্দাবলি উচ্চারণ করেছেন, তা যদি বাস্তবে প্রতিফলিত হয়; তা হলে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করতে সক্ষম হবে। কেননা, সততা এবং সততার কোনো বিকল্প নেই। সততাই হচ্ছে উন্নয়নের চাবিকাঠি। দেশ যদি দুর্নীতিমুক্ত হতে পারে; তা হলে মানুষের সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য কারো দিকে আর তাকিয়ে থাকতে হবে না। আপন গতিতেই সে চলার যোগ্যতায় পৌঁছে যাবে। পদ্মা সেতুর মতো আরো অনেক প্রকল্প নির্মাণের দাবিদার হতে পারবে। আর সে কারণেই অর্থমন্ত্রীর কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা যেকোনো ব্যাংকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করুক। দেশের ১৬ কোটি মানুষের এ প্রত্যাশা পূরণে সরকার এগিয়ে আসুক এবং বাস্তবচিত্রে তা প্রতিফলিত হোক।

 

"