বিশ্লেষণ

বায়ুদূষণ রোধে জাগ্রত হোক বিবেক

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আবু আফজাল সালেহ

বিভিন্ন দেশের বাতাসের মান নিয়ে গবেষণা করে আসছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। সম্প্রতি বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০১৮ গত সপ্তাহে প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি; যা কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে। প্রতিবেদন তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের তিন হাজারের বেশি শহরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করেছে। যেখানে উন্নত দেশের শহর যেমন আছে তেমনি অনুন্নত দেশ বা শহরের তালিকাও আছে।

মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদানগুলোর অন্যতম বাতাসে বিদ্যমান পিএম ২ দশমিক ৫ (পার্টিকুলেট ম্যাটার) বা অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মান অনুযায়ী প্রতি ঘনমিটার বাতাসে এর সহনীয় মাত্রা ১০ মাইক্রোগ্রাম। যদিও ঢাকার বাতাসে পিএম ২ দশমিক ৫-এর মাত্রা এ মানের অনেক ওপরে, প্রতি ঘনমিটারে ৯৭ মাইক্রোগ্রামের বেশি। বিভিন্ন দেশের রাজধানীর বায়ুমান বিবেচনায় এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রাজধানীগুলোর মধ্যে এর চেয়ে বেশি পিএম ২ দশমিক ৫ এর উপস্থিতি আছে কেবল দিল্লির বাতাসে। এ হিসেবে দিল্লির পর ঢাকা হচ্ছে সবচেয়ে দূষিত বাতাসের রাজধানী। রাজধানী হিসেবে ঢাকার পরই সবচেয়ে দূষিত বাতাস কাবুলের। যুদ্ধবিধ্বস্ত এ শহরটির বায়ুদূষণের মাত্রা ঢাকার চেয়ে অনেক কম। এ শহরটির বাতাসে পিএম ২ দশমিক ৫-এর মাত্রা প্রতি ঘনমিটার ৬১ দশমিক ৮ মাইক্রোগ্রাম।

বাতাসে ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের সূক্ষ্ম কণাকে পিএম ২ দশমিক ৫ বলা হয়। ডব্লিউএইচওর মান অনুযায়ী, বাতাসে পিএম ২ দশমিক ৫-এর গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ১০ মাইক্রোগ্রাম। আর যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ১২ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণাকে নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়। তবে ৩৫ দশমিক ৪ মাইক্রোগ্রামকে চলনসই বিবেচনা করা হয়। এর বেশি হলে অর্থাৎ প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম ২ দশমিক ৫-এর পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫০ দশমিক ৪ মাইক্রোগ্রাম হলে ওই বাতাসকে ধরা হয় অস্বাস্থ্যকর হিসেবে। এ হিসেবে ঢাকার বাতাস মানবস্বাস্থ্যের জন্য অস্বাস্থ্যকর।

গত চার বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার একটি প্রকল্পের আওতায় ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বসিয়ে ঢাকার বাতাসে দূষণ ও বিপদের মাত্রা, সেই সঙ্গে তাতক্ষণিক করণীয়ও জানান দিয়ে আসছে। ইন্টারনেটে এটি রিয়াল টাইম এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই), যেটাকে বাংলায় ‘সার্বক্ষণিক বায়ুমান সূচক’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে তার প্রতিবেদন খুবই নেতিবাচক। বিশেষ করে রাজধানীর বায়ুর দূষণহার নিয়ে। বিশ্বে নির্ভরযোগ্য এ যন্ত্রের সূচকে দেখা ঢাকার বাতাসে দূষণ বা বিষের অবস্থা মারাত্মক অবস্থায়। ২৪ ঘণ্টায়ও ইতিবাচক সবুজ সূচকে আসছে না। এমনকি বিপজ্জনক সূচক (কারো কারো জন্য অস্বাস্থ্যকর হলে) কমলাতেও না। বেশির ভাগ সময় বায়ুতে অতিবিপজ্জনক উপাদানের উপস্থিতি দেখাচ্ছে।

বায়ুমান থেকে জানা যায়, বায়ুতে কয়েকটি রং ও বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর বস্তুকণার (যেমন ওজোন গ্যাস, হাইড্রোজেন সালফাইড, সিসা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড) উপস্থিতির পরিমাণ দিয়ে। বায়ুমান ভালো হলে সবুজ, মোটামুটি ভালো হলে হলুদ, কারো কারো জন্য অস্বাস্থ্যকর হলে কমলা, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর হলে লাল, অতি অস্বাস্থ্যকর হলে বেগুনি আর বিপজ্জনক হলে খয়েরি রং দিয়ে সূচকে চিহ্নিত করা হয়। ভাবার বিষয় হচ্ছে, দুপুরের পর থেকেই ঢাকার বাতাসে বিপজ্জনক উপাদানের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এমনকি ছুটির দিনেও সবুজ সংকেতে আসছে না।

বায়ূদূষণের জন্য দায়ী অনেক কিছু। যানবাহনের ধোঁয়া ও ইটভাটা মূলত রাজধানীর বায়ুদূষণের প্রধান কারণ বলে গবেষণায় জানা যায়। তবে রাজধানী বা আশপাশের ইটভাটাগুলো দায়ী বেশি। গবেষণায় পাওয়া গেছে, ঢাকার বায়ুদূষণের শতকরা ৬২ ভাগ দায়ী এ কারণ দুটো। ইটভাটাগুলো বায়ুদূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটা ৩৪ ভাগ এবং মোটরযান ১৮ ভাগ দায়ী বলে এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে। বাংলাদেশে পরিবেশদূষণ অনেক মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, শুধু ঢাকাতেই এক বছরে ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সারা দেশের শহরাঞ্চলে মারা গেছে ৮০ হাজার। পরিবেশদূষণের সমন্বিত নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবনের ওপর।

ঢাকা শহরের ছয়টি বিদ্যালয়ের শিশুদের ফুসফুসের কার্যকারিতা নিয়ে ২০১৬ সালে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছিল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আরবান ল্যাব। ফলাফলে দেখা যায়, বিদ্যালয়গুলোর ২৫ শতাংশ শিশুর ফুসফুস পূর্ণমাত্রায় কাজ করছে না। তাদের ফুসফুস ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ করছে। কয়েক বছর ধরেই ঢাকার বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণার উপস্থিতি সহনীয় মাত্রার ওপরে রয়েছে। ক্ষতিকর বস্তুকণার এ উপস্থিতি না কমে উল্টো বাড়ছে। ২০১৭ ও ১৮ সালের নভেম্বর মাসের তথ্য বিশ্লেষণেও দেখা যায়, ঢাকার বাতাসে অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণার পরিমাণ বেড়েছে।

বাংলাদেশে বায়ু, পানি ও পরিবেশদূষণে বছরে ক্ষতির পরিমাণ ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৭ ভাগ। পরিবেশদূষণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু, রোগী আর বৃদ্ধরা। শুধু বায়ুদূষণে ক্ষতি হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। ঢাকা শহরের ৬ লাখ মানুষ এখন সিসা দূষণের কবলে। ঢাকার পরই নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সবচেয়ে বেশি দূষণের শিকার। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে বায়ুদূষণ সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

স্বাস্থ্যবিদদের অভিমত হচ্ছে, বায়ুতে থাকা সিসা মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর একটা বিষয়। সিসার উপস্থিতির প্রভাবে মানুষ দ্রুত বুড়িয়ে যায়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। বিশেষ করে শিশুরা দুর্বল বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বেড়ে ওঠে। এ ছাড়া বায়ুতে থাকা ক্ষতিকর বস্তুকণা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুস শক্ত হয়ে অক্সিজেন প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে ক্যানসারসহ নানা রোগ জন্ম নেয়। বাতাসে সহনীয় মাত্রার অতিরিক্ত অতিসূক্ষ্ম এ বস্তুকণা স্বল্পমেয়াদে মাথাব্যথা, শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ নানা ব্যাধির জন্য দায়ী বলে জানান চিকিৎসকরা। এর প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস ক্যানসার, কিডনিসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন তারা। বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি শ্বাসতন্ত্রের রোগ হয়। হাঁপানি রোগী হলে তাদের হাঁপানি বেড়ে যায়। আবার অনেকে নতুন করে হাঁপানি, শ্বাসতন্ত্রের অ্যালার্জি, হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত হন। যক্ষ্মার মতো রোগগুলো বায়ুদূষণের কারণে বেড়ে যায়। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেড়ে যায় নবজাতক ও শিশুদেরও। ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যও দায়ী বায়ুদূষণ। বাড়ছে সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা। এ নাজুক অবস্থায় পড়ে শিশু আর রোগীরা। আইকিউএয়ারের প্রতিবেদনও বলছে, বছরে সাত লাখ অপরিণত মৃত্যুর জন্য দায়ী বায়ুদূষণ। বর্তমান বিশ্বে মৃত্যুর চতুর্থ প্রধান কারণ এটি। বায়ুদূষণের অর্থনৈতিক ক্ষতিও ব্যাপক। ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে আমাদের প্রিয় রাজধানী ঢাকা। সর্বশেষ নরওয়েভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদফতরের শুষ্ক মৌসুমের গবেষণায় ঢাকার বায়ুদূষণের ভয়াবহতা ওঠে এসেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত বায়ুমান যন্ত্রের রিপোর্টেও ভয়াবহতা উঠে এসেছিল।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ আছে। ২০১৮ সালে সংশোধনও করা হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বায়ুদূষণ বা পরিবেশদূষণ-কল্পে বেশ কিছু আইন-বিধি-নীতিমালা রয়েছে। আইনসমূহ হচ্ছে (০১) বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধনীসহ), (০২) পরিবেশ আদালত আইন ২০০০, (০৩) পরিবেশ আদালত আইন ২০১০, (০৪) বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৭, (০৫) ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩, (৬) ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ সংশোধন আইন ২০১৮ (সংশোধনী) ইত্যাদি। তবে কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না! আইন বাস্তবায়নে আরো কঠোর হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকারকে কঠোর হতে হবে এবং ইটভাটা মালিকপক্ষকেও আন্তরিকতা দেখাতে হবে। তাহলেই আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

আর একটি বড় কারণ হচ্ছে যানবাহনের ধোঁয়া। ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন থেকে বায়ুদূষণ বেশি হচ্ছে। এ বিষয়ে লেখালেখিও হচ্ছে প্রচুর। এখানেও একই অবস্থা। আইন আছে। কিন্তু ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না বিভিন্ন কারণে। আমরা এ ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন শহরের গৃহীত উদ্যোগ অনুসরণ করতে পারি। যানবাহন থেকে পরিবেশের দূষণের মাত্রা বেশি। শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, আলোদূষণ প্রভৃতি ঘটে পরিবহন খাত থেকে। ডিজেল ব্যবহার, নিয়মিত মেরামত না করা, লক্কড়-ঝক্কড় যান ইত্যাদি কারণে পরিবেশদূষণের মাত্রা কম-বেশি হয়। অতিরিক্ত যানবাহনের ওপরও দূষণমাত্রা নির্ভর করে। কয়েকটি শহর যানবাহনের চাপ কমিয়ে পরিবেশদূষণের মাত্রা কমিয়ে বা জিরোতে আনতে যানবাহন নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আমরা আমাদের দেশে বাস্তবায়ন করতে পারি।

মানুষ যেন গাড়ি নিয়ে শহরের কেন্দ্রে আসা কমিয়ে দেয়, এজন্য (একেবারেই প্রয়োজন ছাড়া) লন্ডনের কেন্দ্রে গাড়ি চালাতে গেলে দিনে ১০ পাউন্ড বা প্রায় ১৪ ডলার কিংবা ১১ ইউরো মাশুল গুনতে হয়। ২০০৩ সাল থেকে এই ‘কনজেশ্চান চার্জ’ বসানো হয়েছে। রাস্তায় লাগানো যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নাম্বারপ্লেট চিনে নিতে পারে অর্থাৎ ধরতে পারে, ‘ভিড়ের মাশুল’ দেওয়া হয়েছে কিনা। ব্যত্যয় হলে ২৪০ পাউন্ড অবধি জরিমানা! কোপেনহেগেনে ২০১৯ সাল থেকে ডিজেল গাড়ি ঢোকা বন্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে ডেনমার্কের রাজধানীতে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা শুধুমাত্র সাইকেল আরোহীদের জন্য রাখা; শহরের অর্ধেক বাসিন্দা সাইকেলে চড়ে অফিস যান। আমরা এভাবে চিন্তা করতে পারি। একটি লেন শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য রাখতে পারি। এতে যানজট কমবে, সাইকেলে চড়ে অফিস, কর্মস্থলে যেতে পারবে। খরচ কমে যাবে, পরিবেশদূষণের মাত্রা অনেক কমে যাবে। আর রাজধানীতে যানবাহন ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবেই। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে। সরকারি গাড়ি ব্যবহারে বা বরাদ্দে নতুন চিন্তা আনা যেতে পারে। যাতে করে একটি গাড়ি অনেকে ব্যবহার করতে পারেন, সেটা চিন্তা করা যেতে পারে।

ঢাকার বাতাস ২৪ ঘণ্টাই বিপজ্জনক ও অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু আগে থেকেই এ ধারা বজায় থাকলেও এর ভয়াবহতা নিয়ে বা জনসচেতনতা নিয়ে মিডিয়াতে আলোচনা হচ্ছে কম। গণমাধ্যমকে বেশি পরিমাণে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের দুর্দিনে গণমাধ্যমের ইতিবাচক অনেক ভূমিকা থাকে। এ বিষয়েও উচ্চকিত দেশের গণমাধ্যম, তা আমরা আশা করি। ভয়াবহতার অবস্থা তুলে ধরে সচেতনতার কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে করণীয় কী কী, তা তুলে ধরতে হবে। জনসচেতনতা সৃষ্টিই পারে বিভিন্ন রকমের দূষণের ভয়াবহতা কমাতে। পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। নগরায়ণে সুষ্ঠু পরিকল্পনা করতে হবে। সবুজ বিপ্লব দরকার। বনায়ন দরকার এবং সেই সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে পরিবেশবান্ধব শিল্প-কারখানা।

লেখক : কবি ও কলামিস্ট

abuafzalsaleh@gmail.com

 

"