কাটাতে হবে নতুন সংকট

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল, গুদাম ও কারখানা সরাতে কাজ করছে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন বাধা এসেছে। তবে সে বাধা কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। সরকারের অনমনীয় পদক্ষেপের সামনে তা স্থবির হয়ে পড়েছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে অন্যত্র। কেমিক্যাল সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও ধীরে ধীরে সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের গুদামজাতক্রীয় কেমিক্যাল। কিন্তু এ দাহ্য পদার্থ সরিয়ে কোথায় নেবেন, তা নিয়ে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। দাহ্য পদার্থ রাখার জন্য বাড়িভাড়া দিতে চাইছেন না কেউ। এ ছাড়া আপৎকালীন কেমিক্যাল রাখার জন্য সরকারের ঘোষিত স্থানেও রাখার পরিবেশ নেই। কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন উজালা ম্যাচ ফ্যাক্টরির অধিকাংশ জায়গা বেদখল হয়ে আছে। প্রভাবশালীরা ফ্যাক্টরির ভেতরের অধিকাংশ জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছেন ট্রাকস্ট্যান্ড। তা ছাড়া গাজীপুরের বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) কাঁঠালদিয়ার স্থানটি খালি বলা হলেও সেখানে গড়ে উঠেছে বস্তি। ওই বস্তিতে প্রায় ৫০০ পরিবার বসবাস করছে। ঘটনার ক্রমপরিক্রমায় পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল সরানো নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সংকট।

এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসার প্রশ্নে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখানে বেদখলের ঘটনা ঘটেনি। যারা অবস্থান করছেন তারা অস্থায়ীভাবেই রয়েছেন। কোনো স্থায়ী স্থাপনাও এখানে গড়ে ওঠেনি। কেমিক্যাল রাখার জন্য যে পরিবেশ দরকার তা প্রস্তুত করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। তাদের মতে, শিগগিরই সেখানে কার্যক্রম শুরু করা যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জায়গা প্রস্তুত না করে অভিযান চালানোর কারণে ব্যবসায়ীরা ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কেমিক্যাল সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে বাসাবাড়িতেও কেমিক্যাল রাখছেন। তারা আরো বলেছেন, পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল সরিয়ে নেওয়াটা যেমন জরুরি, একইভাবে সেই কেমিক্যাল নতুন কোনো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে কি না, তাও বিবেচনায় রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে জায়গা প্রস্তুত না করে এভাবে হঠাৎ করে অভিযান চালানোয় কিছুটা বাড়তি শঙ্কা এবং ঝুঁকির জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, একটা সুন্দর পলিসি তৈরির আগে যদি এভাবে অভিযান চলতে থাকে, তবে ব্যবসায়ীরা কেমিক্যাল অন্যত্র রাখবেন; যা হবে সেই এলাকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

আমরা মনে করি, কেমিক্যাল সরানোর পাশাপাশি নতুন স্থানে কেমিক্যাল রাখার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে অভিযান এবং পুনর্বাসনের কাজ একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। অভিযানকে সফল করার জন্য পুনর্বাসনকে একটু বেশিই গুরুত্ব দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকার পুরো এলাকাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে এলাকা পরিষ্কার এবং পুনর্বাসনের কাজ একই সঙ্গে করতে পারে। মনে রাখতে হবে, পুনর্বাসনের কাজে গাফিলতি হলে সরকারের এ মহৎ পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে এবং যা হবে পচা শামুকে পা কাটার মতো। পুরান ঢাকার মানুষ পচা শামুকে পা না কাটার পক্ষে। কেবল পুরান ঢাকার মানুষই নয়, দেশের প্রায় প্রত্যেকটি মানুষের প্রত্যাশা তাদের০০ যেন এমন হৃদয়বিদারক মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী হতে না হয়।

 

"