নির্ধারিত বনাম বিক্রয় মূল্য

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সীমালঙ্ঘনকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। বাক্যটি বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সব স্থানে, সব ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। বিষয়টি কেবল বিশ্বাসের ওপরই নয়, বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে আজ প্রতিষ্ঠিত। যেকোনো অবস্থায় এবং যেকোনো ক্ষেত্রে মানুষ যখন তার সীমাকে লঙ্ঘন করেছে, তখন তার ধ্বংসকে কেউ রুখতে পারেনি। প্রমাণসাপেক্ষে ইতিহাস সে কথাই বলে। তারপরও সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে। দুর্ভোগের শিকার হয়েছে মানুষ ও তার প্রাণপ্রিয় পৃথিবী। সীমাকে অতিক্রম করা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু লঙ্ঘন কখনোই তা নয়। অতিক্রম ইতিবাচক এবং লঙ্ঘন নেতিবাচক। ‘অতিক্রম’, মানবসভ্যতা ও প্রকৃতির কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করে। ‘লঙ্ঘন’ ধ্বংসকে ডেকে আনে।

পৃথিবীর সর্বত্রই কমবেশি সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে ও হচ্ছে। তবে, লাগামহীন লঙ্ঘিত হলে অস্তিত্বের সংকটে পড়তে হয়। আর সেই সংকট ঠেকাতে তৈরি হয়েছে আইন। আইনই পারে লাগাম টেনে ধরতে। আর এই লাগাম টেনে ধরার প্রশ্নে প্রায় সব দেশই আইনের অধীন। তবে এ আইন তখনই কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে, যখন সে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়। সুষ্ঠু প্রয়োগের অভাবে মাঝেমধ্যে আইন অকার্যকর হয়ে পড়ে। সে রকম একটি সংবাদ সংবাদপত্রের পাতায় উঠে এসেছে।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, সরবরাহ সংকটে ১২ টাকার ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড ইনজেকশন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। এতে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ইনজেকশন কিনতে বাধ্য হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। উৎপাদনকারীরা বলছেন, ইনজেকশন তৈরির কাঁচামাল আমদানির অনুমতি প্রদানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের দীর্ঘসূত্রতার কারণে জীবন রক্ষাকারী ওষুধটির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে। আর এ কারণেই বাজারে অস্বাভাবিক দামে ইনজেকশনটি বিক্রি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তালিকাভুক্ত ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড ইনজেকশনটি একটি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী যে তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কাঁচামাল আমদানির ওপর অনীহা প্রকাশ করে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিউড্রো ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড দিয়ে ইয়াবা তৈরি হয়, সে কারণে আমদানির অনুমোদনকে সীমিত করা হয়েছে।

এ তো গেল পক্ষ-বিপক্ষের যুক্তি-তর্ক-গপ্পো। বাস্তবতা হচ্ছে, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড ইনজেকশন বিক্রি হলেও প্রশাসন রয়েছে নীরব ভূমিকায়। যদিও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হলে ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। বিধান আছে ও থাকবে। কিন্তু তার প্রয়োগ না থাকলে আইন তার কার্যকারিতা হারায়। এ ক্ষেত্রে তা প্রমাণিত হয়েছে। ইফিড্রিন ইনজেকশনের মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণের কথা স্মরণ করলে মনে হয়, এ ক্ষেত্রে শুধু সীমা লঙ্ঘিত হয়নি। মাত্রাহীন সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে। আমরা মনে করি, যারা এই সীমালঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের আদালতের সামনে দাঁড় করানো উচিত। প্রাপ্য দণ্ডে দণ্ডিত হওয়া দরকার। নতুবা এরা প্রতিনিয়ত সীমালঙ্ঘন করেই যাবেন আর সাধারণ মানুষকে এরা প্রতিনিয়তই গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করাকে অব্যাহত রাখবেন, যা সভ্যতার নিদর্শন হতে পারে না। সরকার নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষকে গিনিপিগ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবেনÑ এটুকুই প্রত্যাশা।

 

"