অর্থপাচার বন্ধ হোক

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ama ami

একসময়ের তলাবিহীন ঝুড়ি এখন আর তলাবিহীন নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বহু কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে আজ সে একটা সম্মানজনক অবস্থানে নিজেকে উন্নীত করতে সমর্থ হয়েছে। এটা কারো অনুদান নয়, নয় কোনো উপঢৌকন। এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ভালোবাসার বিনিময়ে অর্জিত ফল। আজ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় বিশ্বের তৃতীয় দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। আর এর ওপরই ভর করে নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। ঠিক একই সময়ে, এক মণ দুধে এক ফোঁটা গো-চনা পড়ার মতো ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশে অর্থপাচার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থ পাচার দেশকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি সামাজিক নানা সমস্যা তৈরি করছে। সামাজিক বৈষম্য বাড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রধান কারণ। তারা আরো বলেছেন, মানুষের হাতে টাকা আসার পর বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুযোগ না থাকলে ব্যবসায়ীরা পাচারের দিকে মনোযোগী হন এবং এ দেশে মুদ্রা পাচার এখন একটা নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাচার রোধ করতে হলে সর্বাগ্রে আইনি কাঠামোকে পর্যাপ্ত শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিনিয়েগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলাটাও অপরিহার্য। মূলত দেশে খুব সহজে ভোগের এবং বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে অর্থ পাচার অনেকটা সীমিত হয়ে আসবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈষম্য দূর করতে কেবল অর্থ পাচার রোধ করলেই হবে না। প্রতিরোধের পাশাপাশি সব পর্যায়ের নীতিতে একনীতির পথকে অনুসরণ করাটাই শ্রেয়। দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটন করাকেই হতে হবে নীতিমালার অন্যতম উপাদান। এ ছাড়া প্রয়োজন একটা সামাজিক আন্দোলনের। যে আন্দোলন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।

আমরা মনে করি, বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক সুবিধা ভোগ করছে। এ সময়টাকে কাজে লাগাতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় সরকারকে বিশেষভাবে এগিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যেই সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শৈথিল্য কাম্য নয়। আমাদের দেশে অর্থ পাচারের বড় অংশই ট্রেড বেজড মানি লন্ডারিং। এ ছাড়া খেলাপি হওয়া ঋণের অর্থও পাচার হচ্ছে; যা পাচারকৃত অর্থের একটা বড় অংশ বলে মনে করছেন অনেকেই। সুতরাং দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণের কথা চিন্তা করে বলতে হয়, দেশপ্রেম এবং দেশপ্রেমই এ সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ। আর সে কারণেই প্রয়োজন একটা সামাজিক আন্দোলনের। যে আন্দোলন মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে নেবে- এটুকুই প্রত্যাশা।

"