অর্থনৈতিক উন্নয়নধারা অব্যাহত থাকুক

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় আজ বাংলাদেশের অর্থনীতি। আর এ উত্তরণে রয়েছে সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন; যা সম্ভব করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্ব। সেই ধারাবাহিকতায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি পরিস্থিতিরও উন্নতি হতে শুরু করেছে। আমদানির গতি কমায় এবং রফতানির গতি বাড়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে স্বস্তি ফিরেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক লেনদেন ভারসাম্যের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে এ চিত্র উঠে এসেছে। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক দিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো।

মনে রাখতে হবে, দেশকে সমৃদ্ধির ধারায় এগিয়ে নিতে হলে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিন্তু এ খাতে স্থবিরতা তৈরি হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে ধীরে ধীরে এ স্থবিরতা কাটিয়ে উঠছে দেশের অর্থনীতি। ত্বরান্বিত হচ্ছে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও রয়েছে তার বিশদ বিবরণ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ২৭ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে রফতানি থেকে আয় হয়েছে ২০ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৬ কোটি ডলার। সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি কমেছে প্রায় ১৬০ কোটি ৬০ লাখ ডলার হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। তবে বিদেশি বিনিয়োগ ও বিদেশি সহায়তা ছাড়ের পরিমাণ বাড়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া উল্লিখিত সময়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বাবদ দেশে এসেছে ২৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ২৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২ হাজার ৪১৮ কোটি ডলার। রফতানি আয় বেড়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ২ হাজার ১৩২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। এ ছাড়া জানুয়ারি মাসে ৩৬২ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি আয় হয়েছে ৩৬৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় গত মাসে রফতানি আয় ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি হয়েছে।

তবে আমরা আশা করি, বিনিয়োগে সন্তোষজনক ফল পেতে হলে পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও বিনিয়োগ না বাড়ার কোনো কারণ নেই। বর্তমানে বিনিয়োগে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।

"