ছিনতাইকারীর অভয়ারণ্য

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ama ami

টঙ্গী কোনো নির্জন জনপদ নয়। নয় কোনো পরিত্যক্ত অঞ্চল। একটি জনবহুল শহরের নাম টঙ্গী। এলাকা জুড়ে শিল্প-কারখানা। আর সে কারণেই এ এলাকার আরো একটি পরিচয় আছে। আমরা টঙ্গীকে শিল্পনগরী হিসেবেই জেনে এসেছি। কিন্তু ইদানীং আরো একটি বিশেষণে ভূষিত হতে চলেছে এই নগরী। অনেকেই বলছেন, টঙ্গী যেন আজ ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মিডিয়ায়ও উঠে এসেছে সেই অভয়ারণ্য হয়ে ওঠার বহুমুখী সংবাদ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, চোখের সামনে ঘটছে ঘটনা। অথচ যাদের এ ঘটনা ঘটতে না দেওয়ার কথা, তারা কোথায়! তারা নিশ্চয়ই নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে নেই। থাকার কথাও নয়। তবে কি এই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জেগে জেগে ঘুমাচ্ছেন?

হয়তোবা তাই। তা না হলে প্রতিনিয়ত কেন এ রকম ঘটনার শিকার হবেন এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ। এলাকাবাসী বলছে, টঙ্গীতে ছিনতাই এখন এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক দিন ধরেই চলে আসছে এই অনাচার। বিশেষ করে প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে ছিনতাইকারীদের তা-ব। সাধারণত ওই সময়ের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। আর ছিনতাইকারীরা ওই সময়কে টার্গেট করে শ্রমিকদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে। পোশাকশ্রমিকসহ এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের কাছে ছিনতাইকারীরা অনেক দিন ধরেই এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিমত, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাই অভয়ারণ্য তৈরির নেপথ্য কারণ। ছিনতাইকারীদের কর্মকা- এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় ছিনতাই প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছে। তবে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় প্রতিরোধ কমিটি বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারেনি।

গত বছরের ১ জানুয়ারি টঙ্গীতে ফিল্মি স্টাইলে ব্যবসায়ীর ২৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ২৮ জুন টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে কামরুল নামের এক পিকআপভ্যানের চালক নিহত হন। ছিনতাইকারীরা ভ্যানটি ছিনতাই করার লক্ষ্যে এ অভিযান চালায়। ৯ সেপ্টেম্বর কোয়ালিটি কন্ট্রোলার শাহ নেওয়াজ ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, একটি সোনার চেইন ও মোবাইল সেট নিয়ে যায়। হোসেন মার্কেট এলাকার পোশাকশ্রমিক রাবেয়াও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন চার মাস আগে। কারখানা থেকে বেতন নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারীরা তার সর্বস্ব লুট করে। এভাবে টঙ্গীতে ছিনতাইয়ের ঘটনার যেন শেষ নেই। কমার কোনো নিদর্শন নেই। বিপরীতে বলা যায়, ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বাড়তে বাড়তে এমন একপর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, টঙ্গীকে বলা হচ্ছে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য।

আমরা মনে করি, টঙ্গী থেকে এই সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনকেই নিতে হবে। দেশের মানুষ পুলিশকে তাদের নিরাপত্তার রক্ষক হিসেবেই দেখে থাকেন। এ ভাবনা থেকে তাদের যেন সরে আসতে না হয়, বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন নিশ্চয়ই ভেবে দেখবে এবং টঙ্গী ছিনতাইকারীমুক্ত এলাকা হিসেবে আবির্ভূত হবেÑ এটাই প্রত্যাশা।

"