ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা। খেলাপি ঋণে লাগাম টানা সম্ভব না হলে অর্থনীতির কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি হোঁচট খেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের এই মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব পক্ষ খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা আরো বলেছেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব না হলে দেশ ও জাতি ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না।

দেশের ঋণখেলাপিদের কাছে আটকে আছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ। বিশাল অঙ্কের এই খেলাপি ঋণের বড় অংশই গেছে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের পকেটে। আদালতের দরোজায় ধরনা দিয়েও খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। এমতাবস্থায় খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি সীমাবদ্ধতাগুলো খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে দেশের ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকারের নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার ঘোষণা দেন। এ যাবৎ তিনি যতগুলো বৈঠক করেছেন তার প্রত্যেকটিতেই খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা তাদের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, খেলাপি ঋণ কমাতে আইন সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের। খেলাপি ঋণের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততর করা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় অর্থঋণ আদালত স্থাপনসহ বিভাগীয় শহরে একাধিক অর্থঋণ আদালত গঠন এবং উচ্চ আদালতে পৃথক বেঞ্চ বসানোর ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে।

অনেকের মতে, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ব্যাপারে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। শক্তিশালী আইন কাঠামোর আওতায় এনে এদের দ্রুত আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এদের বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই খেলাপিদের সীমাহীন দৌরাত্ম্য এবং অনৈতিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতা দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষ আর সেই অনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার দেখতে চায় না। এখানেও তারা সরকারের জিরো টলারেন্স দেখতে চায়। আমরা মনে করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের সেই আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে। প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।

"